পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৩৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আপনার ( পুরুষের ) মনকে ছিন্নভিন্ন ক’রে দেবে ; আপনার আত্মাকে নারী তার আপন অনন্তের সঙ্গে মিলনের ফঁাদে ফেলবে ; এবং বিরামহীন চলাফেরার অর্থহীন শব্দে আপনাকে দিয়ে নারী অনন্তের শ্বাসরুদ্ধ ক’রে দিতে চেষ্টা করবে। আমি এ কথা ইঙ্গিত করছি না যে গার্হস্থ্যজীবনই নারীর একমাত্র জীবন । আমি বলতে চাই যে, মানবিক জগৎ নারীর জগৎ— তা গার্হস্থ্যজীবনই হোক আর জীবনের অন্যান্ত কর্মে পূর্ণ হোক— সবই মানবিক ক্রিয়া– সংগঠন গড়ে তোলার বিমূর্ত প্রয়াস মাত্র নয় । যেখানেই কিছু ব্যক্তিগত ও মানবিক গুণসম্পন্ন বস্তু দেখা যায়, সেখানেই নারীর জগৎ প্রতিষ্ঠিত । প্রত্যেক ব্যক্তি গার্হস্থ্যজীবনে তার ব্যক্তিগত মূল্য খুজে পায়, সুতরাং তার মূল্য বাজারের মূল্য নয়, তা ভালোবাসার মূল্য। অর্থাৎ ঈশ্বর অসীম করুণাভরে সকল প্রাণীর উপর যে ভালোবাসা অর্পণ করেছেন, তারই মূল্য । এই গার্হস্থ্যজীবন নারীর প্রতি ঈশ্বরেব উপহার। এই জীবনের সীমানা ছাড়িয়ে চার দিকে নারী তার ভালোবাসার দীপ্তি বিকীর্ণ করতে পারে, এবং যখন ডাক আসে তখন তার নারীস্বভাবের প্রমাণ দেবার জন্য এই জগৎকে ছেড়ে যেতেও পারে। কিন্তু এই সত্য অগ্রাহ করা যায় না, যে মুহুর্তে নাবী তার মায়ের কোলে জন্মেছে, সে মুহুর্তে সে তার আপন সত্য জগতের— মানবিক সম্পর্কে ভরা জগতের— কেন্দ্রে জন্মেছে। যেখানে জীবনের রহস্তে অনন্ত কৌতুহল রয়েছে, সকল বস্তুর সেই কেন্দ্রস্থলে উপরিভাগের বাধা ভেদ ক’রে নারী পৌছতে পারে। সেজন্তে তাকে শক্তি প্রয়োগ করতে হবে । পুরুষের এই শক্তি এতটা পরিমাণে নেই। যদি নারী নষ্ট না করে, তবে এই >8\う