পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৩৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শক্তি তার আছে । আর সেইজন্যে অ-সাধারণ গুণের জন্য যে-সব প্রাণীকে কেউ ভালোবাসে না, নারী তাদের ভালোবাসে। পুরুষকে তার নিজস্ব জগতে কর্তব্য পালন করতে হয়। সেখানে পুরুষ সর্বদাই শক্তি, সম্পদ ও নানা প্রকারের সংগঠন সৃষ্টি করছে। কিন্তু ঈশ্বর নারীকে সাধারণ বস্তু ও ঘটনায় ভরা জগতকে ভালোবাসার জন্যে পাঠিয়েছেন। যে পরীর জগতে যুগ যুগ ধরে সুন্দর পর যাত্বকাঠি না ছোয়ানো পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকে, নারী সে জগতের অধিবাসিনী নয়। ঈশ্বরের জগতের সর্বত্রই নারীর হাতে যাদুকাঠি আছে। এই যাতৃকাঠি তাদের হৃদয়কে জাগিয়ে রাখে। এই যাত্বকাঠি সম্পদের সোনার কাঠি নয় বা ক্ষমতার লৌহদণ্ড নয়। আমাদের সকল অধ্যাত্ম-গুরুরা ব্যক্তির অনন্ত মূল্য ঘোষণা করেছেন। আধুনিক যুগের প্রবল জড়বাদ রক্ত-তৃষ্ণ সংগঠনদেবতার কাছে ব্যক্তিকে নিষ্ঠুরভাবে বলি দিচ্ছে। যখন ধর্ম জড়বাদী, যখন দেবতার অকল্যাণ-শক্তিতে ভীত হয়ে বা সম্পদ ও ক্ষমতার লোভে মানুষ দেবতাদের পূজা করে, তখন পূজার আচারানুষ্ঠান নিষ্ঠুর হয় এবং অসংখ্য বলি দাবি করা হয়। মানুষের অধ্যাত্মজীবনের বিকাশের সঙ্গে আমাদের পূজা হয়ে ওঠে ভালোবাসার পূজা । সভ্যতার বর্তমান পর্যায়ে যখন ব্যক্তির বিনষ্টি কেবল চর্চা করা হচ্ছে না, তাকে গৌরব দান করা হচ্ছে, তখন নারী তার নারীত্বের জন্তে লজ্জা অনুভব করছে । কারণ ঈশ্বর তার প্রেমের বাণীসমেত নারীকে ব্যক্তির অভিভাবক ক’রে পাঠিয়েছেন, আর এই ঐশ্বরিক কর্মে নারীর কাছে স্থল ও নৌ-বাহিনী, পালামেণ্ট, দোকান-বাজার ও কারখানা অপেক্ষা ব্যক্তি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে S 88