পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৩৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঈশ্বরের নিজস্ব বাস্তবতার মন্দিরে নারী ঈশ্বরের কাজ করে ; সেখানে ক্ষমতা অপেক্ষ ভালোবাসার মূল্য বেশি। পুরুষ ক্ষমতাগর্বে গর্বিত হয়ে জীবনপূর্ণ বস্তুসমূহকে ও মানবিক গুণসম্পন্ন সম্পর্কসমূহকে বিক্রপ করছে দেখে এক বিশালসংখ্যক নারী পরুষকণ্ঠে চীৎকাব ক’রে প্রমাণ করতে চাইছে যে তারা নারী নয়, এবং যেখানে তারা ক্ষমতা ও সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করে সেখানেই তারা সত্যরূপে প্রকাশিত। বর্তমান যুগে যখন এই-সব নারীকে মানবজাতির জননীরূপে দেখা হয়, ও অস্তিত্বে মূল প্রয়োজনসাধিকারূপে এবং সমবেদনা ও ভালোবাসার গভীরতর আধ্যাত্মিক প্রয়োজন-সাধিকারূপে দেখা হয়, তখন তাদের গর্ব অtহত হয় । পুরুষ তার বিমূর্ত ভাবের তৈরি-করা মূর্তি অৰ্চনায় খুব সাধু উৎসাহ দেখায় বলে নারী লজ্জায় তার নিজস্ব সত্য-ঈশ্বরকে ভেঙে ফেলছে। এই ঈশ্বর ভালোবাসায় আত্মোৎসর্গেব পূজার জন্য অপেক্ষা করছেন । সমাজের যে কঠিন ভিত্তিস্তবের উপর নারীর জগৎ প্রতিষ্ঠিত, সেই স্তরের তলে তলে বহুকাল ধরে পরিবর্তন ঘটে চলেছে। সম্প্রতি বিজ্ঞানের সাহায্যে সভ্যতা ক্রমশঃই পরুষ ভাবে বেড়ে চলেছে। তাব ফলে ব্যক্তির পূর্ণ সত্য ক্রমশঃই বেশি পরিমাণে অগ্রাহ্য হচ্ছে। আজ প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি-সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনধিকার-প্রবেশ করছে, এবং আইনের কাছে মানবিক আবেগ পৰাভূত হচ্ছে। কোনো কোনো সমাজ পরুষ ভাবাদশের দ্বারা অতিমাত্রায় নিয়ন্ত্রিত হবার ফলে শিশুহত্য চলেছে। তার ফলে জন-সংখ্যায় নাৰী-উপাদান নিষ্ঠুরভাবে যতটা সম্ভব কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আধুনিক সভ্যতায় অন্তরূপে একই ব্যাপার ঘটেছে। ক্ষমতা ও সম্পদের অপবিমিত У о S 8 (t