পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


লালসায় এই সভ্যতা নারীকে তার জগতের বেশির ভাগ থেকে বঞ্চিত করেছে, এবং ঘর ক্রমশঃই কর্মস্থলের ভিড়ে হঠে যাচ্ছে । এই আধুনিক সভ্যতা সারা জগৎকে নিজের কাজের জন্য অধিকার করছে, তার ফলে নারীর জন্তে কোনো জায়গাই থাকছে না । এই উৎসাদন নারীকে কেবল আহত করছে না, তাকে অপমানিত করছে । কিন্তু মানুষের আক্রমণাত্মক শক্তির ঠেলায় নারীকে চিরকাল নিছক সজ্জার ক্ষেত্রে আটকে রাখা যাবে না। কারণ সভ্যতার ক্ষেত্রে নারী কম প্রয়োজনীয় নয়। সম্ভবতঃ পুরুষ অপেক্ষা অধিক প্রয়োজনীয়। পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসে বিশাল ধ্বংস-পর্বগুলি যখন অতিক্রান্ত হয়েছে, তখনো পৃথিবী পূর্ণতার কোমলতায় উপনীত হয় নি। সেই কোমলতা শক্তির হিংস্র প্রকাশকে ঘৃণ। করে। পরস্পর-প্রতিদ্বন্দ্বী বাণিজ্য ও সংগ্রামী শক্তিসমূহের উচিত, মানব-সভ্যতার পূর্ণতার পর্যায়কে পথ ছেড়ে দেওয়া। এই পূর্ণতার শক্তি সৌন্দর্য ও মঙ্গলের গভীরে নিহিত। আমাদের ইতিহাসের গোড়াতেই উচ্চাকাঙ্ক্ষা বহুদিন ধবে রয়েছে। তার ফলে শক্তিতে অধিষ্ঠিত দলের হাত থেকে ব্যক্তির প্রতিটি অধিকার জোর ক’রে ছিনিয়ে নিতে হয়েছে, এবং যা মানুষের পক্ষে কল্যাণকর তাকে পাবার জন্য মানুষকে আসতের সাহায্য নিতে হয়েছে। কিন্তু এই ধরণের বন্দোবস্ত চিরস্থায় হতে পারে না । বারেবারেই তাকে হেরে যেতে হয়। কারণ এই বন্দোবস্তের নানা খাজে ও ফাটলে হিংসার বীজ থেকে যায়, অনৈক্যের শিকড় অন্ধকারে ছড়িয়ে যায়, এবং যখন একেবারে অপ্রত্যাশিত তখনি তা ভেঙে পড়ে। সুতরাং যদিও ইতিহাসের আধুনিক যুগে পুরুষ তার পরুষ শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করছে এবং বিকাশলাভের জীবন্ত সূত্রকে অস্বীকার >8○