পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৩৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ক’রে পাথরের পর পাথর সাজিয়ে তার সভ্যতাকে গড়ে তুলছে, তথাপি পুরুষ নারীর স্বভাবকে ধুলোয় গুড়ে ক’রে দিতে পারে নি বা তার মরা উপাদানে মিশিয়ে ফেলতে পারে নি। নারীর ঘর ভেঙে যেতে পারে, কিন্তু নারীকে হত্যা করা যায় নি এবং যাবে না। নারী কেবল পুরুষের একচেটিয়া ব্যবসায়ের বিরুদ্ধে লড়াই ক’রে তার জীবিকার স্বাধীনতা চাইছে না, সেই সঙ্গে পুরুষের একচেটিয়া সভ্যতার বিরুদ্ধেও লড়াই করছে, কারণ সেখানে পুরুষ প্রতিদিন নারীর হৃদয় ভেঙে দিচ্ছে ও তার জীবনকে নিঃসঙ্গ করে তুলছে। মানবিক স্থষ্টির জগতে আপন ভার অর্পণ ক’রে নারী অবশ্যই লুপ্ত সামাজিক সমতাকে ফিরিয়ে আনবে। প্রতিষ্ঠানের দানবীয় রথ আজ জীবনের রাজপথে কড়কড় শব্দে আর্তনাদ করছে, দুঃখ ও বিচ্ছেদ ছড়াচ্ছে । কারণ জগতের সবকিছুর সামনে তার উর্ধ্বশ্বাস গতি । সুতরাং ব্যক্তির বিক্ষত ও বিকৃত জগতে অবশ্যই নারীর আবির্ভাব হবে । নারী অবশ্যই প্রতিটি ব্যক্তিকে— অকর্ম ও হীনগৌরবকে— আপন বলে দাবি করবে। কর্মনৈপুণ্য-বিজ্ঞানের তীব্র বিদ্রুপ হাসি থেকে নারী অবশ্যই সযত্নে মানবিক আবেগের সুন্দর ফুলগুলিকে রক্ষা করবে। লোভের সংগঠিত শক্তি মানব-জীবনের স্বাভাবিক অবস্থাকে বঞ্চিত ক’রে যে অপবিত্রতা স্থষ্টি করেছে, নারী অবশ্যই তা দূর করে দেবে। আজি সময় এসেছে, নারীর দায়িত্ব সর্বকালের তুলনায় বিশেষ বেড়ে গেছে ; গার্হস্থ্যজীবনের সীমা ছাড়িয়ে নারীর কর্মক্ষেত্র বহুদূর প্রসারিত হয়েছে। আজ অপমানিত ব্যক্তিদের জগৎ নারীর কাছে আবেদন পাঠিয়েছে। এই-সব ব্যক্তি অবশ্যই তাদের সত্য মূল্যকে খুজে পাবে, আবার সূর্যালোকে মাথা তুলে দাড়াবে এবং নারীর ভালোবাসার মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের প্রেমে তাদের আস্থা নতুন > 8 ዓ