পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৩৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করে জ্ঞাপন করবে । মানুষ আজকের সভ্যতার অসঙ্গতি দেখেছে। এই অসঙ্গতির ভিত্তি জাতীয়তাবাদ, অর্থাৎ অর্থনীতি, রাজনীতি ও আনুষঙ্গিক সামরিক মতবাদ । বিশাল যান্ত্রিক সংগঠনগুলির সঙ্গে নিজেদের খাপ খাওয়াবার জন্য মানুষ তার স্বাধীনতা ও মানবিকতা হারাচ্ছে । সুতরাং আশা করা যায়, পরবর্তী সভ্যতা নিছক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও শোষণের উপর প্রতিষ্ঠিত হবে না, বরং বিশ্বব্যাপী সামাজিক সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত হবে। পারস্পরিক আদানপ্রদানের উপবেই তা প্রতিষ্ঠিত হবে, কর্মনৈপুণ্যের অর্থনৈতিক আদর্শের উপর হবে না। আর তখন নারী তার সত্য ভূমিকা খুজে পাবে। পুরুষ বিশাল দৈত্যাকার প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে বলে আজ ভাবতে অভ্যস্ত হয়েছে যে, এই রূপান্তরিত শক্তির মধ্যে পূর্ণতার স্বভাব খানিকটা আছে। এই অভ্যাস পুরুষের মধ্যে রয়ে গেছে এবং তার ফলে মানুষের বর্তমান অগ্রগতির আদর্শে কোথায় সত্যকে হারাচ্ছে, তা বোঝা পুরুষের পক্ষে কঠিন । কিন্তু নারী যদি তার দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়, তবে আধ্যাত্মিক সভ্যতা গঠনের এই নতুন কাজে সে তার নবীন মন ও সকল সহানুভূতি-শক্তি প্রয়োগ করতে পারে। অবশু নারী চঞ্চল হতে পারে, বা তার দৃষ্টিভঙ্গী সঙ্কীর্ণ হতে পাবে, এবং সে তার জীবনের মহৎ উদেশ্বকে হারাতে পারে । এই সভ্যতা থেকে নারী বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে ও পুরুষের পিছনে গুপ্ত জীবন যাপন করছে বলেই আমার মনে হয় অপেক্ষমান আগামী সভ্যতায় নারী তার ক্ষতিপূরণ পাবে। আর এই-সব মানুষ যারা তাদের ক্ষমতার গর্ব করে ও শোষণের 為8br