পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মানুষ আত্মনিয়োগ করেছে, অন্ত কথায়, যখন নদীর উৎকর্ষ খালের দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচারিত হতে চলেছে, তখন আমরা ব্যাপারটিকে তার ভাগ্যের উপর কিছুতেই ছেড়ে দিতে পারি না। তখন অবশ্যই আমরা আলোচনায় অংশ গ্রহণ করব। আমরা কি কোনো একটি সংজ্ঞা নিয়ে আলোচনা শুরু করব ? কিন্তু যার বিকাশ জীবনব্যাপী, তাকে সংজ্ঞার বাধনে বাধলে, বস্তুটিকে স্পষ্ট করে দেখার সুবিধের জন্যে আপনার দৃষ্টিকেই কিন্তু বেঁধে ফেলা হয় । আর স্পষ্টতা কোনো সত্যের একমাত্র বা সর্বাপেক্ষ গুরুত্বপূর্ণ দিক নিশ্চয়ই নয়। চোরা-লণ্ঠনের দৃষ্টি স্পষ্ট দৃষ্টি, কিন্তু তা সম্পূর্ণ দৃষ্টি নয়। যদি আমরা কোনো গতিশীল চাকাকে জানতে চাই তবে চাকার সব পাখিগুলি গণনা না করলেও চলবে। যখন আকৃতির যথাযথ রূপটি শুধু নয়, গতির দ্রুততাই গুরুত্বপূর্ণ তখন চাকার একটা মোটামুটি অসম্পূর্ণ সংজ্ঞা নিয়েই আমাদের সন্তুষ্ট থাকতে হয়। প্রাণবান বস্তুসমূহের সঙ্গে তাদের পারিপাশ্বিকের দূরপ্রসারী নানান সম্পর্ক বর্তমান ; এর কয়েকটি অদৃশ্ব এবং মৃত্তিকার গভীবে প্রসারিত। সংজ্ঞা তৈরির অত্যুৎসাহে আমরা একটি গাছের শাখা ও শিকড় কেটে ফেলে গাছটিকে সহজেই একটা গুড়িতে পরিণত করতে পারি। অধ্যয়নগৃহ থেকে গৃহান্তরে গড়িয়ে নিয়ে যাবার পক্ষে সেটি নিশ্চয়ই সুবিধাজনক এবং সে কারণেই তা পাঠ্যপুস্তকের উপযোগীও হতে পারে। কিন্তু এর উলঙ্গ অনাবৃত রূপের স্পষ্ট পরিচয় পাওয়া যায় বলেই এ কথা বলা যায় না যে গুড়ি একটি সম্পূর্ণ গাছের চেয়ে সত্যতর পরিচয় বহন করে । এই কারণেই আমি আর্ট-এর সংজ্ঞা নিরূপণ করব না। পরস্তু এর অস্তিত্ব সম্পর্কে নিজেকেই প্রশ্ন করব এবং জানতে চেষ্টা করব