পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


যে, এর উৎস কোথায় ? সেটি কি কোনো সামাজিক উদেশে, না, আমাদের শিল্পবোধের আনন্দের রসদ সরবরাহের চাহিদায়, অথবা প্রকাশের কোনো আবেগের মধ্যে— যে আবেগ আমাদের সত্তারই ধর্ম। L ‘আর্টের জন্যই আর্ট (কলাকৈবল্যবাদ )— এই বচনটিকে কেন্দ্র করে বহুকাল ধরে একটি তর্ক আবর্তিত হচ্ছে। পশ্চিমী সমালোচকদের একাংশ এর প্রতি বিরূপ হয়ে উঠেছেন । রক্ষণশীল মনোবৃত্তির দিনে উপভোগের খাতিরে উপভোগ পাপকৰ্ম বলে মনে করা হত। আজ সেই সন্ন্যাস আদর্শের পুনরুজ্জীবনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে Uকিন্তু সব রক্ষণশীল গোড়ামিই প্রতিক্রিয়া মাত্র। এই মনোভাব সত্যকে তার স্বভাবরূপে প্রকাশ করে না। বিপুল ও বিস্তারিত প্রথার জগতে ছুৎমাগী ও অদ্ভূত হয়ে উঠে উপভোগ যখন জীবনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক হারিয়ে বসে, তখন পরিহারের আহবান আসে। পরিহার তখন সুখকে ফাদ বলে বর্জন করে । আপনাদের আধুনিক আর্টের শিল্পকলার ইতিহাসের আলোচনা করতে আমি চাই না, কেননা তার যোগ্যতা আমার নেই ; তথাপি এই সাধারণ সত্য অামি জোর দিয়ে বলতে পারি যে, যখন কোনো মানুষ তার আনন্দ-উপভোগেচ্ছাকে বাধা দিয়ে ব্যর্থ করবার চেষ্টা করে ও এই ইচ্ছাকে কেবলমাত্র জানবার বা মানুষের মঙ্গল করার ইচ্ছায় পরিবর্তিত করে, তখন তার কারণ এই যে, তার আনন্দোপভোগের ক্ষমতা নিশ্চিত তার স্বাভাবিক বিকাশক্ষমতা ও সুস্থত হারিয়ে ফেলেছে । প্রাচীন ভারতের অলংকারশাস্ত্রের আচার্যেরা এ কথা বলতে দ্বিধাবোধ করেন নি যে, নিরাসক্ত আনন্দ উপভোগই সাহিত্যের প্রাণ। কিন্তু উপভোগ’ শব্দটি সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করতে @