পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হবে। বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে যে এর বর্ণচ্ছত্রে রয়েছে এর বিভিন্ন নক্ষত্রের নানা রঙের গভীর ও অন্তহীন রশ্মিধারা । আর্টের জগৎ বিশেষভাবে নিজস্ব উপাদানে পূর্ণ এবং সেগুলি যে নানান আলোক বিকীর্ণ করে তাদের বিশেষ বিশেষ পালা ও গুণ রয়েছে। এদের প্রভেদ নির্ণয় ও এদের উৎস ও বিকাশ সন্ধান করাই আমাদেব কর্তব্য। (মানুষ ও পশুর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য এই যে, পশু তার প্রয়োজনের সীমার মধ্যেই বিশেষভাবে আবদ্ধ। পশুর বেশির ভাগ ক্রিয়া আত্মরক্ষা ও বংশরক্ষায় নিযুক্ত। খুচবো দোকানদারির মতো এই জীবন-বাণিজ্যে তার কোনো বড়ো রকম লাভ হয় না। পশুব উপার্জনের বড়ে অংশ তার ব্যাঙ্কে সুদ দিতেই খরচ হয়ে যায়। পশুর বেশির ভাগ সংগতি কেবলমাত্র জীবনধারণের প্রয়াসেই খরচ হয়। কিন্তু জীবনের বাণিজ্যে মানুষ এক বড়ো মহাজন। মানুষ যা খরচ করতে বাধ্য, তার চেয়ে অনেক বেশি সে উপার্জন করে। সেইজন্ত মানুষের জীবনে এক বিশাল প্রয়োজনাতিরিক্ত সম্পদ রয়েছে । এই বাহুল্য তাকে অনেকটা পরিমাণে অপ্রয়োজনীয় ও দায়িত্বহীন হবার সুযোগ দিয়েছে। তার প্রয়োজনের চারদিকে বিশাল ভূখণ্ড পড়ে রয়েছে— এখানে তার এমন-সব বস্তু রয়েছে যেগুলি আপনাতেই আপনি সম্পূর্ণ। জীবনের প্রয়োজন সাধনের উপযুক্ত জ্ঞান পশুর থাকা প্রয়োজন। কিন্তু সেখানেই পশু থেমে যায়। আহার অন্বেষণ ও আশ্রয় গ্রহণের জন্য পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্বন্ধে পশুকে জানতে হয় ; বাসস্থান নির্মাণের জন্য নানা বস্তুব কিছু কিছু গুণ জানতে হয় ; এবং ঋতু-পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নেবার জন্য وئ