পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিভিন্ন ঋতুর কিছু-কিছু লক্ষণও জানতে হয়। মানুষকেও অবশু এ-সব জানতে হয় কেননা বাচতে তাকে হবেই। কিন্তু মানুষের মধ্যে একটা প্রাচুর্য আছে যেখানে সে গর্বের সঙ্গে জোর দিয়ে ঘোষণা করতে পারে যে, জ্ঞান কেবল জ্ঞানের জন্যই। সেখানে জ্ঞানের বিশুদ্ধ উপভোগ তার আয়ত্তে, কেননা সেখানে জ্ঞানই মুক্তি। এই প্রাচুর্যের উপরেই মানুষের বিজ্ঞান ও দর্শন বিকাশ লাভ করে ) তা ছাড়া পশুর মধ্যে খানিকটা পরিমাণ পরার্থপরতা আছে । এই পরার্থপরতা পিতৃত্বের, যুথের ও দলবদ্ধ জীবনের। জাতিরক্ষার জন্য এই পরার্থপরতা নিতান্তই আবশ্যক। কিন্তু মানুষের মধ্যে এর চেয়ে অনেক বেশি পরার্থপরতা আছে। যদিও মানবজাতির পক্ষে সাধুতা প্রয়োজনীয় বলে মানুষকে সৎ হতে হয়, মানুষ কিন্তু এই প্রয়োজনীয়তার সীমানা ছাড়িয়ে অনেক দূরে চলে যায়। মানুষের সাধুতা তার অত্যন্ত্র অংশ বা নৈতিক জীবনধারণের পক্ষে একান্ত প্রয়োজন মাত্র নয়। সে স্বচ্ছন্দে বলতে পারে সাধুতার জন্যই সাধুতা। আর এই সাধুতার সম্পদের উপরেই মানুষের নীতিশাস্ত্র প্রতিষ্ঠিত—সেখানে শ্রেষ্ঠ পন্থা বলেই তার মূল্য নির্ভর করে না, বরং সকল কর্মপন্থাব বিরুদ্ধে যেতে পাবে বলেই তার মূল্য। Cঅনাবশ্বকের এই ক্ষেত্রেই আর্টের জন্য আর্ট এই মতবাদের উদ্ভব ) মুতরাং এটি কী ধরণের কর্ম যার প্রাচুর্যের ফলে আর্টের বা শিল্পকলার উদ্ভব, তা এখন নির্ণয়ের প্রয়াস করা যাক । মোনুষের এবং পশুর উভয়ের পক্ষেই সুখ, বিরক্তি, ভয়, ক্রোধ ও ভালোবাসার অনুভূতিকে প্রকাশ করা প্রয়োজন । পশুর মধ্যে এই-সব অনুভূতির অভিব্যক্তি তার প্রয়োজনের সীমার সামান্তই o