পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাইরে গেছে। যদিও মানুষের মধ্যে এই-সব অনুভূতি মূল উদ্দেশ্য সাধনে নিরত আছে, তথাপি তারা ভূমির বহু উর্ধের্ব অসীম আকাশে দূর-দূরান্তরে শাখা বিস্তার করেছে। মানুষের একটি অনুভূতিশক্তির ভাণ্ডার আছে যার সবটা তার আত্মরক্ষায় নিয়োজিত নয়। এই প্রাচুর্য আর্ট-স্থষ্টির ক্ষেত্রে প্রকাশের পথ খোজে, কেননা মানুষের সভ্যতা তার প্রাচুর্যের উপরেই নির্মিত হয়েছে। 3 "যোদ্ধা কেবল প্রয়োজনীয় লড়াই করেই ক্ষান্ত হয় না, সেই সঙ্গে গীতবাদ্যেব সাহায্যে তার মধ্যে যে উন্নততর চেতনা আছে তাকেও প্রকাশ কবে । অথচ যোদ্ধার পক্ষে তা কেবল অপ্রয়োজনীয় নয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেটা আত্মঘাতীও বটে । যে মানুষের মধ্যে প্রবল ধর্মানুভূতি আছে সে তার দেবতাকে মনপ্রাণ দিয়ে অৰ্চনা কবেই ক্ষান্ত হয় না, উপরন্তু তার ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব মন্দিরের জাকজমক ও অর্চনাব আড়ম্বরপূর্ণ প্রথাসমূহের মধ্যে আত্মপ্রকাশ করতে চায় O Kআমাদের হৃদয়ের মধ্যে যখন এমন একটি অনুভূতির তরঙ্গ জাগ্রত হয় যা তাব উৎপাদক বিষয়ের ধারণশক্তিকে বহুগুণে অতিক্রম করে যায়, তখন সে অনুভূতি আমাদের কাছে ফিরে আসে এবং ফিবে-আসা তবঙ্গেব ধাক্কায় আমাদের আত্মসচেতন করে তোলে। আমবা যখন দবিদ্র, তখন আমাদের সকল মনোযোগ বাইরে সেই-সব বস্তুর প্রতি নিবদ্ধ হয় প্রয়োজনের খাতিরে যেগুলি আমাদের সংগ্রহ করতেই হবে । কিন্তু যখন আমাদের সম্পদ আমাদের প্রয়োজনকে বহুগুণে অতিক্রম করে যায়, এর আলো তখন ফিরে এসে আমাদের উপর প্রতিফলিত হয় এবং তখম আমরা যে ধনী ব্যক্তি, এই অনুভূতির উল্লাস আমাদেব পরিব্যাপ্ত করে। সকল প্রাণীর মধ্যে কেবল মানুষই যে নিজেকে জানে יל