পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


—তার কারণ হচ্ছে এই যে, তার জ্ঞানের ঝোক তার কাছে অতিরিক্ত রূপে ফিরে আসে । অন্যান্য প্রাণী অপেক্ষ তার ব্যক্তিত্বকে মানুষ যে অনেক বেশি গভীরভাবে উপলব্ধি করে তার কারণ হচ্ছে এই যে, জানার বিষয়গুলির জন্যে যে অনুভূতির প্রয়োজন, মানুষের অনুভূতির শক্তি তার চেয়ে অনেক বেশি। তার ব্যক্তিত্ব— চেতনার এই প্রাচুর্য অভিব্যক্তির পথ খোজে। সুতরাং আর্টে শিল্পকলায় মানুষ নিজেকেই প্রকাশ করে, তার বিষয়কে নয়। সংবাদ-গ্রন্থে ও বিজ্ঞানে তাদের বিষয়গুলির স্থান আছে, সেখানে মানুষ কিন্তু নিজেকে সম্পূর্ণরূপে লুকিয়ে ফেলে। ] আমি জানি ‘ব্যক্তিত্ব’ শব্দটি ব্যবহার করে আমি বিনা প্রতিবাদে এগিয়ে যেতে পারব না ; এই শব্দটির নানা অর্থ আছে - এই সমস্ত শিথিল-প্রযুক্ত শব্দ বিভিন্ন মতবাদের প্রসঙ্গে ব্যবহার করা যেতে পাবে, কেননা এদের কেবল যে বিভিন্ন আয়তন আছে তা নয়, বিভিন্ন আকৃতিও আছে। এগুলি যেন হল-ঘরে-ঝোলানো নানা বর্ষাতি ; অন্ত্যমনস্ক ব্যক্তিরা অধিকারী না হয়েও এর যে কোনো একটা নিয়ে যেতে পারে। মানুষ জ্ঞাতারূপে সম্পূর্ণ নয়, তার সম্পর্কে তথ্যগুলি তাকে প্রকাশ করে না। কিন্তু ব্যক্তি হিসেবে সে ইন্দ্রিয়সস্তৃত মানুষ। তার পারিপাশ্বিক থেকে নানা জিনিস নিজের মতো করে বেছে নেবার অন্তর্নিহিত ক্ষমতা তার আছে। তার আকর্ষণ ও প্রতিনিবৃত্তির ক্ষমতা আছে ; এই ক্ষমতাগুলির দ্বারা মানুষ কেবল বাইরের নানা দ্রব্যই সংগ্রহ করে না, সে নিজেকেও রচনা করে। যে মুখ্য স্বজন-শক্তিগুলি বাইরের দ্রব্যকে রূপান্তরিত করে আমাদের জীবনের কাঠামোয় পৌছে দেয়, সেগুলি হচ্ছে আবেগসস্তৃত শক্তি। একজন মানুষ যেখানে ধর্মপরায়ণ সেখানে সে ব্যক্তি ; কিন্তু যেখানে 3.