পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সে নিছক ধর্মতত্ত্ববিৎ সেখানে সে ব্যক্তি নয়। ঈশ্বরের জন্য তার অনুভূতি স্বজনশীল, কিন্তু ঈশ্বর সম্পর্কে নিছক জ্ঞান তার সত্তার অংশ হতে পারে না, কারণ তাতে অনুভূতির আগুন নেই। এই ব্যক্তিত্বের উপাদানগুলি কী এবং বাইরের জগতের সঙ্গে তা কী ভাবে সম্পর্কিত, তা এখানে বিচার করা যাক । এই জগৎ আমাদের কাছে এক স্বতন্ত্র সত্তা বলে দেখা দেয়, অদৃশ্য শক্তিসমূহের একটি বাণ্ডিল বলে মনে হয় না। প্রত্যেকেই জানেন যে, তার কারণ, আমাদের ইন্দ্রিয়গ্রাম ও মনের কাছে এই জগৎ বিশেষভাবে ঋণী। এই বাহ জগৎ মানুষের জগৎ । আমাদের অনুভব-শক্তির বিশিষ্ট পাল্লা ও গুণানুযায়ী এই জগৎ তার বিশেষ আকৃতি, রঙ ও গতির বৈশিষ্ট্য গ্রহণ করেছে। আমাদের সীমাবদ্ধ ইন্দ্রিয়গুলি যা সব বস্তু বিশেষভাবে আমাদের জন্য সংগ্রহ করেছে, গড়ে তুলেছে এবং যেগুলিকে ঘিরে সীমার প্রাচীর তুলে দিয়েছে— তা নিয়েই এই জগৎ । কেবল শারীরিক ও রাসায়নিক শক্তি নয়, সেই সঙ্গে মানুষের অনুভব-শক্তিও এই জগতের শক্তিশালী উপাদান— কেননা এ জগৎ মানুষের জগৎ, পদার্থবিদ্যা বা দৰ্শনবিদ্যার অমূর্ত জগৎ নয়। মানুষের অনুভূতির ছাচে এই জগৎ তার আকৃতি গ্রহণ করেছে বটে, কিন্তু এখনো এই জগৎ মানুষেব ইন্দ্রিয়গ্রামের ও মনের মাত্র একাংশ হয়ে আছে। এ জগৎ যেন অতিথিব মতো মানুষের কাছে আছে, আত্মীয়ের মতো নয়। এ জগৎ তখনই সম্পূর্ণরূপে আমাদের নিজেদের হতে পারে যখন সে আমাদের আবেগসমূহের পাল্লার মধ্যে এসে পড়ে। আমাদের ভালোবাসা ও ঘূণা, উপভোগ ও বেদনা, ভয় ও বিস্ময় সর্বদাই এর ওপর কাজ করছে, ও তার ফলে এই জগৎ আমাদের ব্যক্তিত্বের একটি অংশ হয়ে উঠছে। এই У о