পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জগৎ আমাদের বৃদ্ধির সঙ্গে বৃদ্ধি পায়, আমাদের পরিবর্তনের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। এই সম্পর্ক স্বীকরণের গুরুত্ব ও ক্ষুদ্রতা অনুযায়ী, এর পূর্ণ যোগফলের উৎকর্ষানুযায়ী, আমরা বড়ো বা ছোটাে হই । যদি এই জগৎকে সরিয়ে নেওয়া হয় তবে আমাদের ব্যক্তিত্ব তার সমস্ত আধেয় থেকে চু্যত হয়। আমাদের আবেগসমূহ হচ্ছে পাকস্থলীর বিবিধ রসের মতো । এই রসগুলি বাইরের জগৎকে ঘনিষ্ঠ অন্তরঙ্গ ভাবানুভূতিতে পারবর্তিত করে। অপরপক্ষে, এই বাইরের জগতের নিজস্ব রসসমূহ আছে । তারা বিভিন্ন গুণানুযায়ী আমাদের আবেগপ্রধান ক্রিয়াগুলিকে উত্তেজিত করে । আমাদের সংস্কৃত অলঙ্কারশাস্ত্রে একে বলে 'রস'। আমাদের আবেগসমূহের অন্তঃস্থ রস বাইরের রসে সাড়া দেয়। এই মতানুযায়ী একটি কবিতা হচ্ছে একটি বা কয়েকটি রসপূর্ণ বাক্য যা আবেগের রসকে নাড়া দেয়। এই রস আমাদের কাছে নান ভাব নিয়ে আসে, অনুভূতি দ্বারা তাদের প্রাণসঞ্চার করে, এবং আমাদেব প্রকৃতির জীবন-ধাতুর সঙ্গে অঙ্গীকৃত হবার জন্য তাদের তৈরি করে দেয়। 輾 নিরাভরণ তথ্যবিবৃতি সাহিত্য নয়, কেননা আমাদের থেকে স্বতন্ত্র কিছু তথ্যই সেই বিবৃতি আমাদের দিয়ে থাকে। সূর্য গোলাকার, জল তরল, আগুন গরম— এই-সব তথ্যের পুনরাবৃত্তি অসহ্য হয়ে ওঠে। কিন্তু সূর্যোদয়ের সৌন্দর্যের বিবরণ আমাদের কাছে চিরন্তন ঔৎস্থক্যের বিষয়— কেননা সেখানে এই বর্ণন সূর্যোদয়ের তথ্যমাত্র নয়, আমাদের সঙ্গে সূর্যোদয়ের যে সম্পর্ক রয়েছে, তারই অভিব্যক্তি— আর সেইজন্তেই সেটি আমাদের চিরন্তন ঔৎসুক্যের বিষয় । উপনিষদে এ কথা বলা হয়েছে যে, সম্পদ আমাদের প্রিয়, তা > y