পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এই কারণে নয় যে আমরা কেবল সম্পদকেই চাই, আমরা নিজেদের চাই বলেই সম্পদ আমাদের প্রিয়। এর অর্থ হচ্ছে এই যে, সম্পদের মধ্যে আমরা নিজেদের অনুভব করি, আর সেকারণেই একে ভালোবাসি। যে-সব বস্তু আমাদের আবেগসমূহকে জাগ্রত করে, তারা আমাদের আত্মানুভূতিতে জাগ্রত করে তোলে। এ হ’ল বীণার তারে আমাদের স্পর্শের মতো : যদি তা খুব দুর্বল হয়, তবে আমরা কেবল স্পর্শটুকু জ্ঞাত হই; কিন্তু যদি তা সবল হয়, তবে আমাদের স্পর্শ আমাদের কাছেই সুরের মধ্যে ফিরে আসে এবং আমাদেব চেতনা ঘনীভূত হয়। এ ছাড়া আছে বিজ্ঞানের জগৎ— সেখান থেকে আমাদের ব্যক্তিত্বের সকল উপাদান সযত্নে সরানো হয়েছে। আমরা আমাদের অনুভূতি দিয়ে অবশ্যই একে স্পর্শ করব না। কিন্তু এ ছাড়াও রয়েছে বিশাল জগৎ ; আমাদের ব্যক্তিগত জগৎ । আমরা এই জগৎকে জেনে একধারে সরিয়ে রাখব না, আমরা অবশ্যই এই জগৎকে অনুভব করব, কারণ, একে অনুভব করার দ্বারাই আমরা নিজেদেরও অনুভব করতে পারব। কিন্তু যাকে আমরা কেবলমাত্র অনুভবের দ্বারা জানি, আমাদের সেই ব্যক্তিত্বকে আমরা কী ভাবে প্রকাশ করতে পারি ? বিশ্লেষণ ও পরীক্ষার মধ্য দিয়ে একজন বৈজ্ঞানিক যা শিখেছেন, তা তিনি জানাতে পারেন। কিন্তু একজন শিল্পীর (আর্টিস্টের ) যা বলার আছে, কেবল বিবরণ দিয়ে ও ব্যাখ্যা ক’রে তিনি তা প্রকাশ করতে পারেন না। যখন একটি গোলাপফুল সম্পর্কে আমি যা জানি তা আমাকে বলতে হবে, তখন নিতান্ত সাদা-মাটা ভাষার প্রয়োজন । কিন্তু যখন একটি গোলাপফুল সম্পর্কে আমার অনুভূতি জ্ঞাপন করতে হবে, তখন অবস্থা ভিন্নতর ) সেখানে > ミ