পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আত্মপ্রকাশের রেখায়— চলে এবং তারা সাক্ষাৎ করতে ও মিলিত হতে চায়। আমাদের প্রয়োজনের বস্তুসমূহের চার দিকে নিরন্তর মানবসঙ্গের ফলে নানা হৃদয়ানুভূতি জড়ো হয় এবং নিজেদের আত্মপ্রকাশের জন্তে আর্টের সাহায্য প্রার্থনা করে— তখন অলঙ্কৃত তরবারি-ফলকে যোদ্ধার গর্ব ও ভালোবাসার প্রকাশ লক্ষ্য করি এবং উৎসব-সমাবেশে সুরাপাত্রে বন্ধুত্বের অভিব্যক্তি দেখি । রীতি অনুযায়ী আইন-ব্যবসায়ীর আপিস সৌন্দর্যবস্তু নয়, এবং তার কারণ খুব স্পষ্ট। কিন্তু নগরে যেখানে মানুষ তার নাগরিকতার জন্য গর্বিত, সেখানে সরকারী প্রাসাদগুলি অবশ্যই তাদের গঠনে নগরীর প্রতি এই ভালোবাসাকে প্রকাশ করবে। যখন কলকাতা থেকে দিল্লীতে বৃটিশের রাজধানী স্থানান্তরিত হ’ল, তখন নতুন অট্টালিকা নির্মাণে স্থাপত্যের কোন রীতি অনুস্থত হওয়া উচিত, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। কেউ কেউ মুঘলযুগের ভারতীয় স্থাপত্যরীতির পক্ষে ওকালতি করেছিলেন । এই রীতি মুঘল ও ভারতীয় প্রতিভার যুগ্ম ফল। র্তারা এই তথ্যটি ভুলেছিলেন যে, সকল সত্য আর্টের উৎস হৃদয়ানুভূতিতে নিহিত। মুঘল দিল্লী ও মুঘল আগ্রা তাদের সৌধরাজির মাধ্যমে মানবিক ব্যক্তিত্বকে প্রকাশ করেছে। মুঘল সম্রাটের মানুষ ছিলেন, তারা কেবলমাত্র শাসক ছিলেন না। তারা ভারতেই বাস করেছিলেন ও মারা গিয়েছিলেন, র্তারা ভালোবেসেছিলেন ও যুদ্ধ কবেছিলেন। তাদের রাজ্যের স্মৃতিস্তম্ভগুলি কারখানা ও আপিসের ধ্বংসস্তুপের মধ্যে নেই, মৃত্যুহীন শিল্পকৃতিতে রয়েছে— বিরাট সৌধমালায় কেবল নয়, উপরন্তু চিত্রাবলীতে ও সংগীতে, পাষাণ ও ধাতুর খোদাই কর্মে, তুলা ও পশমের বস্ত্রশিল্পে রয়েছে। কিন্তু ভারতবর্ষে বৃটিশ সরকার মানবিক গুণসম্পন্ন নয়। এ আপিসী ছাচে তৈরি ও সে কারণেই > 8