পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ফলে আমাদের চিন্তাক্ষেত্রে যে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় তাতে মনে হয় আর্টের উদ্দেশ্য সৌন্দর্যের উৎপাদন ; পরস্তু আর্টের ক্ষেত্রে সৌন্দর্য কেবল উপায় মাত্র। সৌন্দর্য আর্টের সম্পূর্ণ ও অন্তিম অভিপ্রায় नद्म । ফলে আমরা প্রায়ই এই তর্ক শুনি যে, পদার্থ অপেক্ষ রীতি আর্টের একান্ত আবশ্যকীয় উপাদান কি না। এ ধরণের তর্ক অন্তহীন, এ যেন তলদেশহীন পাত্রে জল ঢালার মতো। এইসব আলোচনার মূল এই ধারণায় যে আর্টের উদ্দেশ্য সৌন্দর্য । কিন্তু যেহেতু নিতান্ত পদার্থের সৌন্দর্যের গুণ নেই, তাই প্রশ্ন দাড়ায় যে রীতি অার্টের প্রধান কারণ কি না । কিন্তু সত্য এই যে— বিশ্লেষণমুখী আলোচনা আর্টের মূল ব্যাপারটি কী, তা আবিষ্কারে আমাদের সাহায্য করবে না। কারণ আর্টের যথার্থ সূত্র হচ্ছে ঐক্যসূত্র । যখন আমরা কোনো আহার্য দ্রব্যের খাদ্যমূল্য জানতে চাই, তখন তার সন্ধান পাই তার উপাদান-অংশগুলিতে। কিন্তু এর আস্বাদনমূল্য এর ঐক্যের উপর প্রতিষ্ঠিত, তা বিশ্লেষণ করা যায় না। পদার্থ স্বতন্ত্ররূপে একটি বিমূর্ত সত্তা, বিজ্ঞানের দ্বারা তা পরীক্ষা করা যায়। আর রীতি যা আসলে রীতি মাত্র, তা এমন বিমূর্ত সত্তা যা অলঙ্কারশাস্ত্রের আইনের আওতায় পড়ে। কিন্তু যখন তারা অবিচ্ছেদ্যরূপে এক, তখন তারা ব্যক্তিত্বের স্থবেব সঙ্গে সঙ্গতি লাভ করে, আর এই ব্যক্তিত্ব পদার্থ ও রীতি, চিন্তা ও বস্তু, উদ্দেশ্য ও কর্মের মিলিত জটিল সংস্থান । সুতরাং আমরা দেখি যে, যথার্থ আর্টে বিমূর্ত ভাবের কোনো স্থান নেই, এবং এ ক্ষেত্রে প্রবেশাধিকার পেতে হলে, তাদের অতি অবশ্যই ব্যক্তিরূপের ছদ্মবেশে আসতে হবে। এই হচ্ছে কারণ وق وج