পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


যেজন্যে কাব্য প্রাণবন্ত শব্দ নির্বাচনের প্রয়াসী— সেই-সব শব্দই প্রয়োজন যা সংবাদমাত্র নয়, পরন্তু আমাদের হৃদয়ে স্বভাবগত হয়ে গেছে, এবং হাটেবাজারে অবিরত ব্যবহারের ফলে যাদের আকৃতি নষ্ট হয়ে যায় নি। উদাহরণরূপে বলি, ইংরেজী শব্দ ‘কনশাসনেস্ এখনো পর্যন্ত এর পাণ্ডিত্যপূর্ণ জড়তার গুটিপোকার অবস্থা অতিক্রম করে নি, ফলে কাব্যে কদাচিৎ এর ব্যবহার হয়। বিপরীতক্রমে এর ভারতীয় প্রতিশব্দ ‘চেতনা একটি প্রাণবন্ত শব্দ, তা-ই এর নিরন্তর কাব্যগত ব্যবহার ঘটে। অপরপক্ষে, ইংরেজী শব্দ ‘ফীলিং জীবনের সঙ্গে ভাসমান। কিন্তু এর বাংলা প্রতিশব্দ ‘অমুভূতি কাব্যক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। কারণ এব কেবল একটি অর্থ আছে, কোনো সৌরভ নেই। এই রকম আরো কিছু সত্য বিজ্ঞান ও দর্শন থেকে এসে জীবনের বঙ ও রুচি আহরণ করেছে, আবাব কিছু সত্য তা করে নি। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তা না করছে, ততক্ষণ তারা আর্টের ক্ষেত্রে রান্না-না-করা শাকসবজির মতে, তা ভোজে পরিবেশনের অনুপযুক্ত। ইতিহাস যতক্ষণ পর্যন্ত বিজ্ঞানের নকল করে ও অমূর্ত চিন্তা নিয়ে নাড়াচাড়া করে, ততক্ষণ তা সাহিত্যের রাজ্যের বাইরে থাকে। কিন্তু ঘটনাবলীর বিবরণীরূপে ইতিহাস মহাকাব্যের পাশাপাশি স্থানগ্রহণ করে। কারণ ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর বিবরণী সময়ের পরিচয় দেয়, এ ক্ষেত্রে তারা ব্যক্তিত্বের রুচির অন্তভুক্ত। এই-সব সময়-পর্ব আমাদের কাছে জীবন্ত হয়ে ওঠে, আমরা তাদের হৃৎস্পন্দন অনুভব করি। এই জগৎ ও ব্যক্তিগত মানুষ মুখোমুখি হয়ে আছে, বন্ধুর মতে, জিজ্ঞাসাবাদ করছে ও অন্তগূঢ় রহস্য আদানপ্রদান করছে। জগৎ অন্তরের মানুষকে প্রশ্ন করে—বন্ধু, তুমি কি আমাকে দেখেছ, তুমি কি আমাকে ভালোবাসো— যে তোমাকে খাদ্যদ্রব্য ও ফলমূল रे > *