পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেখেছিলেন জাপানের আত্মা । কোনো পরিমাপ বা সংখ্যার দ্বারা দেখাকে পরিমাপ করা যায় না ; অদৃশ্ব ও গভীর কিছুর দ্বারা এর পরিমাপ করা যায়। এ কথা বলা যায় না যেহেতু আমরা অসংখ্য জিনিস দেখেছি, সেহেতু আমরা জাপানকে আরো ভালো করে দেখেছি ; বরং বিপরীতটাই সত্য । যদি আপনি আমাকে কোনো বিশেষ গাছের ছবি অঁাকতে বলেন, এবং যদি আমি শিল্পী না হই, তবে আমি প্রতিটি খুটিনাটি নকল করতে চেষ্টা করব পাছে আমি অন্যভাবে এগোলে ঐ গাছটির বিশেষত্ব হারিয়ে ফেলি। এর ফলে ভুলে যাই যে, বিশেষত্ব ব্যক্তিত্ব নয়। কিন্তু যখন সত্যকারের শিল্পী আসেন, তিনি সকল খুটিনাটি উপেক্ষা করেন এবং একান্ত আবশ্বকীয় চরিত্র চিত্রণের কর্মে আত্মনিয়োগ করেন । আমাদের যুক্তিবাদী মানুষও সব বিষয়কে তাদের অন্তর্নিহিত সূত্রের অনুসরণে সরলীকরণ করতে চায় ; সকল খুটিনাটি থেকে মুক্তি পেতে চায় ; যেখানে সব বিষয় এক সেখানে সকলের অন্তরে পৌছতে চায়। কিন্তু পার্থক্য এইখানে যে— বিজ্ঞানী এমন একটি অ-ব্যক্তিক ঐক্যসূত্র সন্ধান করেন যা সকল বিষয়েই প্রয়োগ করা যাবে। উদাহরণস্বরূপ বলি, যে মানবদেহ ব্যক্তিগত, তাকে বিনষ্ট ক’রে তিনি অ-ব্যক্তিক ও সাধারণ শারীরবিদ্যার সন্ধান করেন । কিন্তু যা এখনো পর্যন্ত বিশ্বজগতের হৃদয়ে অধিষ্ঠিত, সেই অদ্বিতীয়কে, সেই ব্যক্তিকে শিল্পী সন্ধান করেন। যখন তিনি একটি গাছকে দেখেন, তখন তিনি গাছটিকে অদ্বিতীয়রূপে দেখেন, উদ্ভিদতত্ত্ববিদের মতো তার সাধারণীকরণ ও শ্রেণী বিভাগ করেন না। শিল্পীর কর্তব্য সেই একটি গাছকে বিশেষরূপে দেখা । তিনি > -o