পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ভাবগুলিকে বর্জন করি না। আমাদের ভারতীয় সাহিত্যে তারা খুবই পরিচিত, কারণ তারা আমাদের ব্যক্তিগত স্বভাবের সঙ্গে এক সূত্রে গ্রথিত । আমি এখানে একটি উদাহরণ দিচ্ছি যা আমার বক্তব্যকে স্পষ্ট করে তুলবে। নিম্নধৃত অংশটি মধ্যযুগের ভারতের জনৈক মহিলা কবি-রচিত একটি ভারতীয় কবিতার অনুবাদ ; এর বিষয়বস্তু জীবন। অঙ্কুরিত বীজের মতো জীবনকে আমি প্রণাম করি ; তাব এক বাহু আকাশে উত্থিত, অপর বাহু মৃত্তিকায় প্রোথিত ; এ সেই জীবন যা বহিরঙ্গে ও আন্তররসে একই ; জীবন যা চিরপ্রকাশমান অথচ চিরপলায়মান । যে জীবন আসছে আর যে জীবন চলে যাচ্ছে, তুইকেই আমি প্রণাম করি ; আমি সে জীবনকে প্রণাম করি যা প্রকাশিত এবং যা সংগুপ্ত ; আমি সে জীবনকে প্রণাম করি যা আচলের মতো অবরুদ্ধ, আর অগ্নিমণ্ডলের উৎসারিত ফেনসমুদ্রের জীবনকে প্রণাম করি ; যে জীবন পদ্মের মতো কোমল, বজের মতো কঠিন । আমি মনের জীবনকে প্রণাম করি, তাব এক দিক অন্ধকারে, অপর দিক অণলোকে । আমি তাকেই প্রণাম করি যে জীবন ঘরে এবং যে জীবন বাহিরের অজ্ঞাতলোকে, যে জীবন আনন্দপূর্ণ, যে জীবন যন্ত্রণায় কাতর, যে জীবন চিরচলমান, নৈঃশব্দ্যলোকে জগৎকে যা ঠেলছে, যে জীবন গভীর ও শান্ত, যা তরঙ্গবিক্ষোভে ভেঙে পড়ে । জীবন সম্পর্কে এই ধারণ মামুলি তর্কসিদ্ধান্ত নয়। প্রতিবার ডানা-ঝাপটানি দ্বারা পাখি যেমন বাতাসকে অনুভব করে, এই 之>