পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ধারণা এই মহিলা-কবির কাছে তেমনি বাস্তব উপলব্ধি । নারী তার সন্তানের মধ্যে জীবনের রহস্যকে পুরুষের চেয়ে বেশি অন্তরঙ্গভাবে উপলব্ধি করে । কবির মধ্যে নারীর এই প্রকৃতি সমস্ত বিশ্বে জীবনের গভীর আলোড়নকে উপলব্ধি করেছে। তিনি তাকে অনন্ত বলে জেনেছেন– এই জানা কোনো যুক্তির পথে নয়, তার উপলব্ধির আলোকে । তাই, যার বাস্তবের উপলব্ধি সীমাবদ্ধ তার কাছে একই ভাব নিতান্ত বিমূর্তরূপে দেখা দেয় ; আর যার অনুভূতিশক্তি ব্যাপকতর ক্ষেত্রে প্রসারিত তার উপলব্ধির আলোকে সত্য বলে প্রতিভাত হয়। আমরা প্রায়ই পাশ্চাত্য সমালোচকদের বলতে শুনি যে, ভারতীয় মন দার্শনিক, কেননা, তা অন্তরের পথে উধাও হতে উদ্যত হয়ে আছে। কিন্তু এ কথা স্বীকার করতেই হবে যে, ভারতের কাছে অনন্ত নিতান্ত দার্শনিক জল্পনার বিষয় নয় ; তা তার কাছে সূর্যালোকের মতোই সত্য । ভারত তাকে অবশ্যই দেখে, উপলব্ধি করে, জীবনে তাকে ব্যবহার করে। সে কারণেই অনন্ত তার দেবাৰ্চনার প্রতীকতার মধ্যে ও সাহিত্যে বার বার এসেছে। উপনিষদের কবি বলেছেন, যদি আকাশ অনন্ত আনন্দে পরিপূর্ণ না থাকত তবে জীবনের সামান্যতম গতি অসম্ভব হত। পায়ের তলায় মাটি যেমন বাস্তব, র্তার কাছে এই বিশ্বগত উপস্থিতি তেমনই বাস্তব, বরং তার চেয়েও বেশি । পঞ্চদশ শতাব্দীতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এমন এক ভারতীয় কবির কাছে এই উপলব্ধি সংগীতের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে— জীবন ও মৃত্যুর ছন্দস্পন্দন সেখানে ধ্বনিত হচ্ছে : আনন্দের উৎস উন্মুক্ত হয়েছে, আর সকল বিশ্ব আলোকে উজ্জল হয়েছে । ९९