পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সেখানে অনাহত সংগীত ধ্বনিত হয়েছে ; এ সেই ত্রিভুবনের প্রেমগীতি। সেখানে কোটি সূর্যচন্দ্রের দীপাবলী শোভা পাচ্ছে ; সেখানে ডমরু-ধ্বনি হচ্ছে, আর প্রেমিক অলস খেলায় মেতেছে। সেখানে প্রেমগীতি ধ্বনিত হচ্ছে, ও আলোকধারা বর্ষিত হচ্ছে । ভারতবর্ষে আমাদের সাহিত্যের বড়ো অংশ ধর্মভিত্তিক, কারণ আমাদের ঈশ্বর দূরের ঈশ্বর ন’ন ; তিনি যেমন আমাদের ঘরে আছেন, তেমনই মন্দিরে আছেন। ভালোবাসা ও স্নেহের সকল মানবিক সম্পর্কের মধ্যে আমরা তার নৈকট্য অনুভব করি এবং আমাদের উৎসব সমারোহে তিনিই প্রধান অতিথি, আমরা তাকেই সম্মান করি । তার পোশাকের প্রান্তভাগ দেখতে পাই এবং র্তার পদধ্বনি শুনতে পাই । আমাদের অর্চনার সকল সত্য বস্তুর মধ্যে আমরা তাকেই অর্চনা করি এবং যেখানে আমাদের ভালোবাসা সত্য সেখানে আমরা তাকেই ভালোবাসি। যে রমণী ভালো, তার মধ্যে আমরা তাকেই উপলব্ধি করি ; যে পুরুষ সত্য, তার মধ্যে আমরা তাকে জানি ; আমাদের সন্তানদের মধ্যে তিনি চিরশিশুরূপে বার বার জন্মগ্রহণ করেন । সেই কারণে ধর্মসংগীত আমাদের প্রেমসংগীত ; এবং আমাদের পারিবারিক অনুষ্ঠানসমূহ– যেমন পুত্রের জন্ম, বা স্বামিগ্রহ থেকে পিতৃগৃহে কন্যার আগমন এবং পুনরায় প্রত্যাবর্তন— সবই আমাদের সাহিত্যে ঈশ্বরলীলার অংশরূপে গাথা আছে । এইভাবে সাহিত্যের রাজ্য সেই ক্ষেত্রে প্রসারিত হয়ে গেছে যা রহস্তের গভীরে লুকানো ছিল, এবং তাকে মানবিক ও মুখর করে তুলেছে। সত্যের রাজ্যে মানবিক ব্যক্তিত্বের জয়ের সঙ্গে তাল রেখে এই অধিকার বেড়ে চলেছে। এই অধিকার কেবল a\○