পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ইতিহাস, বিজ্ঞান ও দর্শনের ক্ষেত্রে প্রসারিত হয় নি, উপরন্তু আমাদের বর্ধিত সহানুভূতির ফলে আমাদের সামাজিক চেতনা ক্ষেত্রে প্রসারিত হয়েছে। প্রাচীন কালের চিরায়ত সাহিত্য কেবল ঋষি, রাজা ও বীরনায়কে পূর্ণ। যারা অন্ধকারে ভালোবেসেছে ও দুঃখ পেয়েছে, তাদের উপর এই সাহিত্য কোনো আলো ফেলে নি । কিন্তু মানুষের ব্যক্তিত্ব বিস্তৃততর ক্ষেত্রে আলো ফেলেছে, অন্ধকার কোণগুলিতে প্রবেশ করেছে, তার ফলে আর্টের জগতও তার সীমান্ত লঙ্ঘন করেছে এবং অনাবিষ্কৃত অঞ্চলে তার সীমারেখা বাড়িয়ে নিয়ে গেছে। যে-সব ক্ষেত্র স্বরহীন ও রঙছুটু উষর ভূমি হয়ে পড়েছিল, সেখানে আর্ট সৌন্দর্যের প্রতীক স্বষ্টি করেছে এবং এইভাবে জগতের উপর মানুষের জয় ঘোষণা করেছে। আর্ট মানুষকে দিয়েছে তার পতাকা । এই পতাকাতলে সে যুদ্ধযাত্রা করেছে বুদ্ধিহীন ও নিক্রিয়ের বিরুদ্ধে, ঈশ্বরের স্থষ্টিক্ষেত্রে নিকটে ও দূরে তার বেঁচে থাকার দাবীকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এমন-কি, মরুভূমির আত্মার সঙ্গে মানব-আত্মার সম্পর্ক আবিষ্কার করেছে। সেখানে প্রকৃতির নৈঃশব্দ্যের সঙ্গে মানব-আত্মার নৈঃশব্দ্যের মিলনের স্মরণস্তস্তরূপে নিঃসঙ্গ পিরামিডগুলি দাড়িয়ে আছে। গুহাগুলির অন্ধকার মানব-হৃদয়ের কাছে তার নীরবতা সমপণ করেছে, এবং তার পরিবর্তে গোপনে শিল্পমালায় ভূষিত হয়েছে। গ্রামে ও লোকবহুল নগরে, মন্দিরে মন্দিরে ঘণ্টাধ্বনি এ কথাই ঘোষণা করেছে, মানুষের কাছে অনন্ত নিতান্ত শূন্ত নয়। মানুষের ব্যক্তিত্বের এই অধিকার-বিস্তৃতি সীমাহীন । একালের বাজার ও কারখানা, এমন-কি যেখানে মানুষের সন্তানেরা বন্দী হয়ে আছে সেই-সব বিদ্যালয় ও অপরাধীদের আবাসস্থল কারাগারসমূহ আর্টের স্পর্শে কোমল হয়ে যায় এবং জীবনের সঙ্গে তাদের কঠিন বিরোধ-সম্পর্ক ૨8