পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সেখানে তা স্বভাবতই পূর্ণতা অন্বেষণ করে ]ি সেই কারণে সে যা সামান্ত, দুর্বল ও অসংগত, সে-সবকে প্রত্যাখ্যান করে। এই অনন্তাকাঙ্ক্ষা আপন বাসের জন্য স্বর্গ রচনা করে ; সেখানে কেবল সেই-সব উপাদানই ব্যবহৃত হয় যা পৃথিবীর নশ্বরতাকে অতিক্রম করে গেছে । মানুষ আলোকের সন্তান। যখনি সে সম্পূর্ণরূপে নিজেকে উপলব্ধি করে, তখনি মানুষ নিজের অমরতাকে অনুভব করে । আর, যেমনি মানুষ এটি উপলব্ধি করে, তেমনি সে অমরতার রাজ্যকে মানবজীবনের প্রতি ক্ষেত্রে বিস্তারিত করে । মানুষের সত্য-জগতের এই প্রাসাদ সত্য ও সৌন্দর্যের জাগ্রত জগৎ । একে রচনা করাই আর্টের কাজ । মানুষ সেখানে সত্য যেখানে সে তার অনন্তকে অনুভব করে ; সেখানে সে ঈশ্বর, আর তার মধ্যে ঈশ্বরই স্বজনকর্তা । তাই, তার সত্য উপলব্ধির সঙ্গে সঙ্গে সে সৃজন করে। কারণ সে তার আপন স্বষ্টির মধ্যে সত্যরূপে বঁাচে এবং ঈশ্বরের জগৎ থেকে আপন জগৎকে সৃষ্টি করে। যথার্থই এ তার আপন স্বর্গ, নানা ভাবের পূর্ণ রূপায়ণ, তা দিয়েই সে নিজেকে ঘিরে রাখে। এখানেই তার সন্তানের জন্মায়, তারা বাচতে ও মরতে শেখে, ভালোবাসতে ও লড়াই করতে শেখে, এখানে তারা জানতে পারে যে যা কেবল দৃশ্যমান তা-ই সত্য নয় এবং যা সঞ্চয় করা হয় তা-ই সম্পদ নয়। যদি মানুষ তার নিজের হৃদয়ে যে কণ্ঠস্বর জেগে উঠছে তা শুনতে পারে তবে প্রাচীনকালের ভারতীয় ঋষিকণ্ঠে যে বাণী ধ্বনিত হয়েছে, সেই একই বাণী শুনতে পাবে— শৃশ্বস্তু বিশ্বে অমৃতস্য পুত্রাঃ, বেদাহমেতং পুরুষং মহান্তং আদিত্যবর্ণং তমসঃ পরস্তাৎ ॥ &ぐ9