পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ব্যক্তিত্বের জগৎ “দিবস-জননীর কোলে সদ্যোজাত কালো শিশুর মতে রজনীর আবির্ভাব ঘটেছে। লক্ষ লক্ষ নক্ষত্র শিশুর দোলনার চার দিক ঘিরে দাড়িয়ে তাকে লক্ষ করছে। নক্ষত্রেরা নিশ্চলভাবে দাড়িয়ে আছে পাছে শিশু জেগে ওঠে।” আমি এইভাবে বর্ণনা করে যেতে পারি, কিন্তু বিজ্ঞান আমাকে উপহাস ক’বে এতে বাধা দেয়। নক্ষত্রের দল নিশ্চল দাড়িয়ে আছে— আমার এই বিবরণে বিজ্ঞান আপত্তি করে । কিন্তু তা যদি ভুল হয়, তবে তার জন্য আমি ক্ষমা প্রার্থনা করব না, ঐ-সব নক্ষত্র নিজেরাই ক্ষমা চাইবে । এটা স্পষ্ট প্রতীয়মান যে নক্ষত্রেরা নিশ্চল দাড়িয়ে আছে । এটা সত্য ঘটনা, একে তর্ক করে উড়িয়ে দেওয়া অসম্ভব । কিন্তু বিজ্ঞান অবশ্যই তর্ক করবে, এটা তাব স্বভাব । সে বলে, “যখন তুমি ভাব যে নক্ষত্রেবা নিশ্চল, তখন প্রমাণ হয় তাদের থেকে তুমি অনেক দূবে অছি।” আমার উত্তর তৈরি আছে– “যখন তুমি বল যে নক্ষত্রেরা ছুটে বেড়াচ্ছে, তখন প্রমাণ হয় তুমি তাদেব খুব কাছে আছে।” বিজ্ঞান আমার ঔদ্ধত্যে বিস্মিত হয় । কিন্তু আমি জেদেব সঙ্গে আমার যুক্তি অঁাকড়ে থাকব এবং বলব যে, যদি বিজ্ঞানের নিকটেব পক্ষাবলম্বন করার এবং দূরের প্রতি বিরূপ হবার স্বাধীনতা থাকে, তবে সে আমাকে দোষ দিতে পারবে ন। যদি আমি বিপরীত পক্ষ অবলম্বন করি এবং নিকটের সত্যনিষ্ঠা সম্পর্কে সংশয় প্রকাশ করি । বিজ্ঞান খুব জোর দিযে মত প্রকাশ করে যে কাছের দৃষ্টি সব So 8