পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নিশ্চিত ভাবতে পারে যে এই জগতে এমন-সব বস্তু আছে যা অন্যান্য প্রাণীর দ্বারা পরিচিত, কিন্তু তাদের কালের সঙ্গে আমাদের কালের মিলন হয় নি বলেই তারা আমাদের কাছে কিছু না। একটি সারমেয় যখন গন্ধ শুকে কোনে কিছু অনুভব করে তখন তা আমাদের ইন্দ্রিয়গ্রামের সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা করে না, সেইজন্য তা আমাদের জগতের বাইরে । একটি উদাহরণ দিই। আমরা এমন-সব অসাধারণ গণিতপণ্ডিতের কথা শুনেছি র্যারা অবিশ্বাস্থ্য কম সময়ের মধ্যে কঠিন অঙ্ক কষে দিতে পারেন । গাণিতিক হিসাবের ক্ষেত্রে তাদের মন সময়ের একটি ভিন্ন স্তরে কাজ করে। এই স্তর কেবল আমাদের স্তর থেকে ভিন্নতর নয়, জীবনের অন্যান্ত ক্ষেত্রে তাদেরই স্তর থেকে ভিন্ন । মনে হয় যেন তাদের মনের গাণিতিক অংশটি ধূমকেতুর মধ্যে বাস করে, আর অন্যান্য অংশ এই পৃথিবীর অধিবাসী। সুতরাং যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তাদের মন উর্ধ্বশ্বাসে ফলাফলের দিকে ছুটে চলে, তা আমাদের কাছে অদৃশ্য, তা তাদের কাছেও দুষ্ট নয় । এটা সুপরিজ্ঞাত তথ্য যে, আমাদের জাগ্রত অবস্থার কালপরিমিতির স্তর থেকে প্রায়শই ভিন্নতর স্তরে আমাদের স্বপ্ন সঞ্চরণ করে । স্বপ্নলোকের সূর্যঘড়ির পঞ্চাশ মিনিট আমাদের ঘড়িতে মাত্র পাঁচ মিনিট হতে পারে। যদি আমাদের জাগ্রত সময়ের সুবিধাজনক স্থান থেকে এই-সব স্বপ্নকে লক্ষ্য করতে পারি, তবে দেখব তারা আমাদের সামনে দিয়ে দ্রুতগামী রেলগাডির মতো ছুটে যাচ্ছে । অথবা যদি আমাদের দ্রুতধাবমান স্বপ্নের জানালা দিয়ে আমাদের জাগ্রত চেতনার মন্থর জগতকে লক্ষ্য করতে পারি, তবে মনে হবে যে, দ্রুতগতিতে এ জগৎ আমাদের থেকে \otr