পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দূরে চলে যাচ্ছে। বাস্তবিকপক্ষে আমাদের মনের ভাবনা ছাড়া অপরের মনের সঞ্চরণশীল ভাবনাগুলি যদি আমাদের সামনে দেখা দিত তবে তাদের সম্পর্কে আমাদের ধারণা তাদের থেকে ভিন্নতর হত, তার কারণ হল আমাদের মানসিক সময়ের ভিন্নতা । যদি আমাদের খেয়ালখুশি মতো সময়ের দৃষ্টিকোণকে চালাতে পারতেম, তবে দেখতেম যে, জলপ্রপাত নিশ্চল দাড়িয়ে আছে এবং পাইনের অরণ্য একটি সবুজ নায়েগ্রা প্রপাতের মতো দ্রুত ছুটে চলেছে। সুতরাং আমরা যা অনুভব করছি জগৎ তা-ই, এ কথা বললে প্রায় সত্য কথাই বলা হয় । আমরা কল্পনা করি, অামাদের মন হল দর্পণ ; আমাদের বাইরে যা ঘটছে তা কম বেশি যথার্থরূপে এই দর্পণেই প্রতিবিম্বিত হচ্ছে। বিপরীতক্রমে, সৃষ্টির প্রধান উপাদান হল আমাদের মন । যখন আমি জগৎকে অনুভব করছি, তখন দেশ ও কালে আমারই জন্য নিরন্তর জগৎ-সৃষ্টি হচ্ছে । দেশ ও কালের বিভিন্ন কেন্দ্রে মন বিভিন্ন দৃশ্য দেখার ফলে সৃষ্টির বৈচিত্র্য দেখা দিচ্ছে । যখন মন মহাকাশে নক্ষত্রপুঞ্জ দেখে— যাকে রূপকচ্ছলে ঘনীভূত নক্ষত্র বলা যায়— তখন তাদের পরস্পর-সম্বন্ধ ও গতিহীন বলে মনে হয় । যখন মন গ্রহগুলিকে দেখে, তখন আকাশের অনেক কম ঘনত্বে সে এদের দেখে ও তার ফলে গ্রহগুলিকে বিচ্ছিন্ন ও গতিশীল বলে মনে হয়। যদি অতি ভিন্নতর ক্ষেত্রে একটি লৌহদণ্ডের অণুগুলিকে দেখবার দৃষ্টি আমাদের থাকত, তবে তাদের গতিশীলরাপে দেখা যেত। কিন্তু যেহেতু কাল ও মহাকালের নানা ব্যবস্থার মধ্যে আমরা বস্তুগুলিকে দেখি, সেজন্য লোহাকে লোহা বলেই দেখি, জল জল বলেই ও মেঘ মেঘ বলেই আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয় । এটি সুপরিজ্ঞাত তথ্য যে, আমাদের মানসিক দৃষ্টির নানা \రినా