পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


যখন ওআণ্ট হুইটম্যানের মতো ব্যক্তির মন অন্তদের অপেক্ষা ভিন্নতর সময়ে সঞ্চরণ করে, তখন র্তার জগৎ স্থানচ্যুতির ফলে ধ্বংস হয়ে যায় না, কারণ র্তার জগতের কেন্দ্রস্থলে তার আপন . ব্যক্তিত্ব বিরাজমান। এই জগতের সকল ঘটনা ও আকৃতি এই কেন্দ্রীয় স্বজনী ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত। সেইজন্য তার স্বতঃস্ফূর্তভাবেই পরস্পর-সম্পর্কিত। তার জগৎ নক্ষত্রদলের মাঝে ধূমকেতুর মতো হতে পারে, অন্যান্তদের অপেক্ষা চলাফেরায় ভিন্নতর হতে পারে, কিন্তু এই কেন্দ্রীয় ব্যক্তিক ক্ষমতার জন্তে এর নিজস্ব সঙ্গতি থাকে। এ জগৎ সাহসিক জগৎ বা পাগলেব জগৎ হতে পাবে। এর বিরাট কক্ষপথে খেয়ালি পুচ্ছতাড়নায় বিভ্রান্ত হতে পাবে, তথাপি এ এক জগৎ বটে। কিন্তু বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ভিন্নতর। কারণ বিজ্ঞান এই জগতের সম্পর্ক থেকে ঐ কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্বকে একেবারেই বর্জন করার চেষ্টা কবে । বিজ্ঞান দেশ ও কালের এক ব্যক্তিবর্জিত ও অপরিবর্তনশীল নিরিখ স্থাপনা করে। তা সৃষ্টির নিরিখ নয় । সেইজন্য এব চরম স্পর্শে বাস্তবতার জগৎ এত বেশি বিচলিত হয় যে এক অমূৰ্তক্ষেত্রে তা অদৃশ্ব হয়ে যায়, সেখানে বস্তুনিচয় শূন্ততায় পর্যবসিত হয়। কারণ জগৎ পরমাণুসমষ্টি ও অণুপুঞ্জ নয়, অথবা বৈদ্যুতীসঞ্চারণ বা অন্যান্ত শক্তিমাত্র নয় ; হীরক অঙ্গারমাত্রও নয়, এবং আলোক ঈথাবতরঙ্গকম্পনমাত্র নয়। ধ্বংসেব দৃষ্টিকোণ থেকে বিচাব করলে আপনারা কখনোই সৃষ্টির বাস্তবতায় উপনীত হতে পারবেন না । কেবল এই জগৎ নয়, স্বয়ং ঈশ্বব বিজ্ঞানেব দ্বারা বাস্তবতা-বিচু্যত হয়েছেন ; আমাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কেব বাইরে যুক্তির পরীক্ষাগারে বিজ্ঞান ঈশ্বরকে বিশ্লেষণ করতে চাইছে, এবং তার পর অজানা ও অজ্ঞেয় বলে ঈশ্বরকে বর্ণনা 8 ૨