পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এই মাধ্যম কি ? আত্মপ্রকাশের জন্য অনন্ত সত্তা তার সামনে এই সান্তের মাধ্যমকে স্থাপিত করেন । র্তার স্বেচ্ছাকৃত শাসন— দেশকালের গণ্ডীর এবং রূপ ও গতির শাসন—তারই প্রতিনিধি এই মাধ্যম। এই আইন হল যুক্তি, তা সর্বজগদগত ; নিরস্তর সদাপরিবর্তমান রূপের মধ্যে আত্মপ্রকাশমান স্বজনীভাবের অন্তহীন ছন্দকে এই যুক্তি নিয়ন্ত্রিত করে। আমাদের ব্যক্তিগত মন এই বিশ্বগত মনের ছনদশীল কম্পনকে তারের মতো আয়ত্তে আনে এবং দেশকালের সংগীতে সাড়া দেয় । আমাদের মনের তারগুলির গুণ, সংখ্যা ও স্বরগ্রাম পরস্পর বিভিন্ন এবং তাদের সুরসাধনা এখনো পর্যন্ত সম্পূর্ণতায় পৌছয় নি, কিন্তু তাদের নিয়ম এই বিশ্বগত মনের নিয়ম । আর এই বিশ্বগত মন সেই সীমাযন্ত্র যাতে চিরকালের খেলার রাজা তার স্থষ্টির নৃত্যসংগীত বাজিয়ে চলেছেন । মন আছে বলে আমাদের যে-সব উপাদান আছে, সেগুলির কারণে আমরা নিজেরাই সৃষ্টিকর্তা হয়ে পড়েছি । আমরা কেবল আর্ট ও সামাজিক সংগঠন গড়ে তুলি না, সেই সঙ্গে আমাদের অন্তরপ্রকৃতি ও বাইরের পরিবেশকেও স্বজন করছি । আর বিশ্বগত মনের আইনের সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষার উপর এদের সত্যতা নির্ভর করে । অবশ্য আমাদের সৃষ্টি ঈশ্বরের বিরাট বিশ্বসৃষ্টির উপরই নানা বৈচিত্র্য মাত্র। যখনি আমরা কোনো অসঙ্গতি সৃষ্টি করি, তখনি তাকে সঙ্গতিতে সমাপ্ত হতে হবে অথবা নৈঃশব্দ্যে বিলুপ্ত হয়ে যেতে হবে । বিশ্ব-সংগীতির ঐকতানে আমাদের কণ্ঠস্বর মেলাতে পারলেই স্মৃষ্টিকারীরূপে আমাদের স্বাধীনতা সর্বোচ্চ তানন্দ লাভ করবে । বিজ্ঞান কবিমানসের সুস্থতা সম্পর্কে সন্দিহান। অসীম সীমার 8৬