পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মাঝে ধরা দেয়— এই আপাত-অসম্ভাব্যকে বিজ্ঞান মানতে রাজী बाझ । আমার বক্তবোর সমর্থনে আমি কেবল এ কথাই বলতে পারি, এই আপাত-অসম্ভাব্য আমার চেয়ে প্রাচীনতর। অস্তিত্বের মূলে এই আগত-অসম্ভাব্য রয়েছে। এই দেওয়ালটি যেমন বাস্তব, আপাত-অসম্ভাব্য তেমনি বাস্তব তথ্য, এবং সেই সঙ্গে রহস্যময় ; তা ব্যাখ্যাতীত বিস্ময় । ঈশোপনিষদের ঋষির কাছে আমি ফিরে যাই এবং সীমাঅসীমের এই বিরোধিতা সম্পর্কে তাব বক্তব্য শুনি । তিনি বলেছেন— অন্ধং তমঃ প্রবিশন্তি যেহবিদ্যামুপাসতে । ততো ভূয় ইব তে তমো য উ বিদ্যায়াং রতাঃ। Lযার সীম। জ্ঞানের খাতিরেই তার অনুসরণ করেন, তারা সত্যকে পান না। এ যেন মরা দেয়াল, পিছনের দৃষ্টিকে আড়াল করে । এই জ্ঞান কেবল সঞ্চয় কবে, কিন্তু দীপ্তি দেয় না। এ যেন আলোহীন প্রদীপ, সংগীতহীন বেহালা । বইয়ের পাত মেপে, ওজন করে ও গুনে আপনি বইটিকে জানতে পারেন না, এব কাগজ বিশ্লেষণ কবেও না। একটি কৌতুহলী মূষিক পিয়ানোর কাঠের ফ্রেম দংশন করতে পারে, এর সব ক’টি তার কেটে ফেলতে পাবে। তথাপি সংগীত থেকে সে ক্রমশঃই দূরে চলে যাবে। এ হল সীমার খাতিরে সীমার অন্বেষণ। _] কিন্তু উপনিষদের মতে, অসীমের একান্ত অন্বেষণ আরো গাঢ় অন্ধকারে আমাদের নিয়ে যায়, কেননা পরম অসীম শূন্যতা মাত্র। সীমা হল একটা কিছু ; একটা ব্যাঙ্কে জমাহীন হিসেবের চেকবইয়ের মতো । কিন্তু পরম অসীমের কোনো কিছুই জমা নেই। 8 ግ