পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেশকাল পরিবর্তন করে, তবে একটি পর্বত ও একটি জলপ্রপাত অন্ত্য-কিছু হয়ে যেতে পারে, অথবা আমাদের কাছে কিছুই না বলে মনে হতে পারে । আমরা আরো দেখেছি, আমাদের এই সম্পর্ক-বন্ধনে আবদ্ধ জগৎ স্বেচ্ছাচারী নয়। এ ব্যক্তিগত, অথচ বিশ্বগত । অামার জগৎ আমারই, এর উপাদান আমার মন, তথাপি আপনার জগৎ নিজস্ব ব্যক্তিগত বাক্তিত্বে নিহিত নয়, বরং এক সীমাহীন ব্যক্তিত্বের অধীন । যখন এই ব্যক্তিত্বের স্থলে আমরা আইনকে বসাই, তখন সমস্ত জগৎ বিমূর্ততায় ভেঙে পড়ে। তখন তা হয়ে পড়ে উপাদান ও শক্তি, আয়ন ও ইলেকট্রন । তখন তার রূপ নষ্ট হয়, স্পৰ্শবোধ ও রুচি বিলুপ্ত হয় । তখন সৌন্দৰ্য-মুখর বিশ্ব-নাটক নীরব হয়, সংগীত নিস্তব্ধ হয়। তখন অন্ধকারে বিশ্বরঙ্গমঞ্চের কলাকৌশল প্রেতে পরিণত হয়, অকল্পনীয় নাস্তিত্বের ছায়া দর্শকহীন প্রেক্ষাগৃহে দেখা দেয় । এই প্রসঙ্গে আমি আবার আপনাদের দ্রষ্টা-কবি ওআণ্ট হুইট্‌ম্যানের বক্তব্য উদ্ধার করছি -— যখন আমি বিজ্ঞ জ্যোতির্বিদের ভাষণ শুনলাম, যখন প্রমাণাদি, নানা সংখ্যা অামার সামনে থামের মতো এসে দাড়ালো, যখন আমাকে নানা অঁাকজোক রেখাচিত্র দেখানো হল, তাদের যোগ, বিভাগ ও পরিমাপ করতে বলা হল, যখন সভাগৃহে বসে প্রশংসাধ্বনির মধ্যে জ্যোতির্বিদকে ভাষণ দিতে শুনলাম, তখন কত সত্বর আমি বিনা কারণে ক্লান্ত ও শ্রান্ত বোধ করলাম, 8 8○