পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


যতক্ষণ না পর্যন্ত আমি সেখান থেকে বেরিয়ে চলে এসে বাইরে ঘুরলাম, রহস্যময় কুয়াশাভরা নৈশ আকাশতলে ঘুরে বেড়ালাম, অার মাঝে মাঝে প্রগাঢ় নৈঃশব্দ্যে নক্ষত্রসভার দিকে তাকালাম । তারকামণ্ডলীব ছন্দোবিজ্ঞান অধ্যাপন-গৃহে নানা রেখাচিত্র একে ব্যাখ্যা করা যেতে পাবে, কিন্তু তারকামণ্ডলীর কাব্য পাওয়া যাবে আত্মাব সঙ্গে আত্মার নি,শব্দ মিলনে, আলো-আঁধারের সংগমস্থলে । সেখানে সীমার ললাটে অসীম তার চুম্বনলেখা অঙ্কিত কবে দেয়। সেখানে শুনতে পাই সৃষ্টির বিশাল বাদ্যযন্ত্রে মহৎ “অহং-এর সংগীত সংখ্যাতীত চাবিতে অন্তহীন সঙ্গতিতে বেজে উঠছে। এই জগৎ গতিশীল, তা স্পষ্ট প্রমাণিত হচ্ছে । “জগৎ”— এই সংস্কৃত শব্দটির অর্থ যা চলছে। এর সকল রূপ ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু তা কেবল জগতের নেতিবাচক দিক । তার সমস্ত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে একটি সম্পর্কের মালা গাথা রয়েছে, তা অনন্ত । একটি গল্পগ্রন্থে বাক্য গুলি ছুটে চলে, কিন্তু গ্রন্থের ইতিবাচক উপাদান হল গল্পের সঙ্গে বাক্য নিচয়ের সম্পর্ক । লেখক-ব্যক্তিত্বের অভিলাষকে এই সম্পর্ক প্রকাশ কবে, এবং পাঠক-ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সঙ্গতি স্থাপন করে। যদি গ্রন্থটি গতিহীন অর্থহীন বিচ্ছিন্ন শব্দের সংগ্রহ মাত্র হত, তবে আমরা ন্যায়সঙ্গতভাবে এ কথা বলতে পারতাম যে এটি আকস্মিকভাবে রচিত হয়েছে । আর সে ক্ষেত্রে পাঠক-ব্যক্তিত্বের কোনো সাড়া গ্রন্থটি পেত না । সেইভাবে সমস্ত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এই জগৎ আমাদের কাছে নিতান্ত পলাতক চাতুরী নয়, এর চলাফেবার মধ্য দিয়ে আমাদের কাছে এই জগৎ অনন্তের কিছুটা প্রকাশ করে । & e