পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নেতিবাচক গুণবিচারে ব্রহ্ম নিশ্চল । ইতিবাচক গুণবিচারে ব্ৰহ্ম সর্বকালের উপর ক্রিয়া করেন। তিনি কবি, তিনি র্তার মনকে উপাদানরূপে ব্যবহার করেন । তিনি বন্ধনের মধ্যে নিজেকে প্রকাশ করেন। এই প্রকাশের উৎস তার অনন্দের প্রাচুর্য। বাইরের কোনো প্রয়োজনের তাগিদে এই প্রকাশ ঘটে না । সুতরাং কেবল তিনিই অন্তহীন সময়ের মধ্য দিয়ে নিজেকে দান ক’রে আমাদের প্রয়োজন মেটাতে পারেন। এখানেই আমরা আমাদের আদর্শকে পাই । [ নিত্য বর্জনই জীবনের সত্যT এর পুর্ণতায় আমাদের জীবনের পূর্ণত। সকল অভিব্যক্তির মধ্যে আমাদের জীবনকে আমাদের কবিতা ক’রে গড়ে তুলতে হবে। এই রচনা আমাদের অনন্ত আত্মার পূর্ণ ব্যঞ্জনার ইঙ্গিতবাহী হবে। তা আমাদের সম্পদের প্রকাশস্থল হয়ে উঠবে না, কেননা সম্পদের কোনো নিজস্ব অর্থ নেই। আমাদের মধ্যে অসীমের যে চেতনা রয়েছে, তা আমাদের প্রাচুর্য থেকে আমাদের আত্মদানের আনন্দে আত্মপরিচয় দেয় । আর সেই কারণে আমাদের কর্ম অামাদের আত্মত্যাগের প্রক্রিয়া মাত্র। তা আমাদের জীবনের সঙ্গে এক হয়ে আছে । এ নদীর প্রবাহের মতো, আর এই প্রবাহই নদী। অামাদের বঁাচতে হবে । জীবনের সত্য আনন্দকে আমাদের পেতে হবে । কবি র্তার কবিতায় নিজেকে ঢেলে দিয়ে যে আনন্দ পান, এ আনন্দ তা’ই। আমাদের মধ্যে যে অনন্ত রয়েছে, আসুন তাকে আমরা আমাদের চারপাশের সব-কিছুতে প্রকাশ করি। আমাদের কর্মে, আমাদের ব্যবহৃত বস্তুতে, যে-সব মানুষের সঙ্গে আমরা ব্যবহার করি তাদের মধ্যে । আমাদের চারপাশের জগতের নানা উপভোগের মধ্যে আমরা এই অনন্তকে প্রকাশ @\○