পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কর্ম প্রকাশিত হয়। কিন্তু যখন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এলোমেলোভাবে অক্ষিপ্ত হয়, তখন তাদের চলাফেরার সঙ্গে জীবনের সঙ্গতি থাকে না, পরন্তু তা ব্যাধি হয়ে ওঠে । এ ঠিক সেইসব কর্মের মতো যা মানুষকে জড়িয়ে ধরে, ও তার আত্মাকে হত্য করে । s না, আমরা অবশ্যই আমাদের আত্মাকে হত্যা করব না । আমরা এ কথা কিছুতেই ভুলব না যে আমাদের মধ্যে যে অনন্ত আছে, জীবন তাকে প্রকাশ করতেই এখানে এসেছে ]ি যদি আমরা আলস্তে অথবা মহতের স্বাধীনতাহীন বস্তুসমূহের অন্বেষণে রত হই, তবে আমরা আমাদের অনন্তের চেতনাকে শ্বাসরুদ্ধ ক’রে হত্যা করব। তার ফলে মৃতবীজ-যুক্ত ফলের মতো আমরা অসম্পূর্ণের আদিম তমসার রাজ্যে ফিরে যাব। জীবন হল নিরস্তর স্বষ্টি । যখন জীবন নিজেকে ছাড়িয়ে অনন্তের পথে যাত্রা করে তখন তা সত্যকে পায় । কিন্তু যখন জীবন থেমে যায়, সঞ্চয় করে ও ফিরে তাকায়, যখন সে পিছনের বাধা-অতিক্রমী দৃষ্টি হারিয়ে ফেলে, তখন জীবনকে মরতেই হয়। তখন জীবন স্বজনের জগৎ থেকে বিচু্যত হয় এবং স্তুপীকৃত বস্তুনিচয়ের চাপে পড়ে বিনাশের ধূলিতে পরিণত হয়। তাদের সম্পর্কে ঈশোপনিষৎ বলেছেন— অসূর্য নাম তে লোক অন্ধেন তমসাবৃতা: | তাংস্তে প্রেত্যাভিগচ্ছন্তি যে কে চাত্মহনো জনাঃ ॥ ‘আত্মা কী? এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ঈশোপনিষৎ এইভাবে— আনেজদেকং মনসো জবীয়ে! নৈনদেব মাপু বন পূর্বমর্ষৎ। তদ্ধাবতোহন্তানতে্যুতি তিষ্ঠৎ তস্মিন্নপো মাতরিশ্বা দধাতি ॥ (t (t