পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মনের নানা বাধানিষেধ আছে। সামনে যা আছে তা নিয়েই ইন্দ্রিয়গ্রাম খুব ব্যস্ত থাকে। কিন্তু আমাদের মধ্যে একত্বের প্রতিভা আছে, তা মনের চিন্তার সীমা উত্তীর্ণ হয়ে যায়। আবার এর উপস্থিতিতে জীবন-প্রেরণা জীবন-শক্তিসমূহকে নিয়তই সামনে এগিয়ে যেতে বলে । আমাদের মধ্যে এই একের সম্পর্কে আমরা সচেতন বলেই আমরা বিশ্বাস করতে পারি না যে এর মৃত্যু আছে, কেননা এই এক তার সকল বস্তুর চেয়ে বেশি, তা সকল ক্ষণ মুহূর্তের মৃত্যুকে অতিক্রম করে যায়। এই একের একত্বের জন্তে, অংশের চেয়ে এ বেশি বলে, এর ক্রমান্বয় উধ্বতন ও নিরন্তর উৎসারের জন্যে আমরা একে মৃত্যুর সকল সীমার বাইরে অনুভব করি । সকল সীমার বাইরে একত্বের চেতনা হল আত্মার চেতনা । আর এই আত্মা সম্পর্কে ঈশোপনিষৎ বলেছেন— তদেজতি তন্নৈজতি তদরে তদ্বন্তিকে । তদন্তরস্য সর্বস্ত্য ততু সর্বস্যাস্ত্য বাহ্যতঃ ॥ এ হল আত্মাকে দূর ও নিকটের, ভিতর ও বাইরের সীমা উত্তীর্ণ হয়ে জানা । সকল বিস্ময়ের মধ্যে এই-যে বিস্ময়, আমার মধ্যে এই-যে এক, আমার সকল বাস্তবতার কেন্দ্র এই এক-কে আমি জেনেছি। কিন্তু আমি এখানেই থামতে পারি না । আমি বলতে পারি না যে এ-সকল সীমাকে অতিক্রম করে গেছে, তথাপি অামাতে বাধা পড়েছে । সেই কারণে ঈশোপনিষৎ বলেছেন— যস্তু সর্বাণি ভূতান্তাত্মন্তেবানুপশ্যতি । সর্বভূতেষু চাত্মানং ততো ন বিজুগুপসতে ৷ বিচ্ছিন্ন তথ্যাবলীব মাঝে যেমন সত্য লুকিয়ে থাকে সে ভাবেই আমাদের মধ্যে আমরা লুকিয়ে আছি। যখন আমরা জানি যে আমাদের মধ্যে এই এক সকলের মধ্যেই এক, তখনি আমাদের ৫৬