পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সত্য উদঘাটিত হয় । কিন্তু আত্মার ঐক্য সম্পর্কে এই জ্ঞান অবশ্যই বিমূর্ত হবে না। যা একজন বা অপরজনের মধ্যে নেই এমন নেতিবাচক বিশ্বৈকত৷ এ নয়। এই আত্মা বিমূর্ত আত্মা নয়, পরন্তু তা আমার আপন আত্মা— যাকে আমি অবশ্যই অপরের মধ্যে উপলব্ধি করব । আমি নিশ্চয়ই জানি যে যদি আমার আত্মা কেবলমাত্র আমারই হয়, তবে তা সত্য হতে পারে না ; সেই সঙ্গে এও জানি যদি তা শেষ পর্যন্ত আমার না হয়, তবে তা বাস্তব নয় । [ন্যায়শাস্ত্রের সাহায্যে আমরা কোনোদিনই এই সত্যে উপনীত হতে পারব না যে আমার মধ্যে ঐক্যবিধায়ক নীতিস্বরূপ যে আত্মা রয়েছে, তা অপরের মধ্যে পূর্ণতাকে পায়T) এই সত্যের আনন্দের মধ্য দিয়ে আমরা তাকে জেনেছি। অামাদের বাইরে আত্মোপলব্ধিতেই আমাদের আনন্দ । যখন আমি ভালোবাসি বা অন্ত কথায়, যখন আমি ছাড়া অন্ত কারোর মধ্যে আমি নিজেকে সত্যতররূপে উপলব্ধি করি, তখনি আমি খুশি হয়ে উঠি । কারণ তখন ,আমার মধ্যে যে এক রয়েছেন, তিনি অপরের সঙ্গে মিলিত হয়ে ঐক্যের সত্যকে উপলব্ধি করেন, আর সেখানেই তার আনন্দ । তাই ঈশ্বরের মধ্যে একের প্রেরণা ঐক্য উপলব্ধির জন্যে অবশ্যই বহুকে চাইবে । প্রেমের মধ্য দিয়ে ঈশ্বর সকলের কাছে নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছেন । ঈশোপনিষৎ বলেছেন : তেন ত্যক্তেন ভুঞ্জীথাঃ । তিনি ত্যাগ করছেন । যখন আমি উপলব্ধি করি তিনি নিজেকে ত্যাগ করছেন, তখন আমি আনন্দ উপভোগ করি । কারণ আমার এই আনন্দ হল নিজেকে তার মধ্যে ত্যাগ করা থেকে উৎপন্ন ভালোবাসার আনন্দ । যখন ঈশোপনিষৎ আমাদের ঈশ্বরের ত্যাগ উপভোগের শিক্ষা 6: o