পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেন, তখন বলেন : মা গৃধঃ কস্যস্বিদ্ধনম্। কারণ আকাজক্ষ ভালোবাসার পক্ষে বাধা । এ হল সত্যের বিপরীত দিকে গতি, স্বার্থচিন্তা আমাদের শেষ উদ্দেশ্য— এই মায়ার দিকে গতি । স্বতরাং আমাদের আত্মোপলব্ধির নৈতিক ও আধ্যাত্মিক দিক রয়েছে । নৈতিক দিকে রয়েছে স্বার্থহীনতার শিক্ষা, আকাজক্ষার নিয়ন্ত্রণ ; আধ্যাত্মিক দিকে রয়েছে সহানুভূতি ও ভালোবাসা । এদের একত্রে গ্রহণ করাই উচিত ; কখনো স্বতন্ত্রভাবে দেখা উচিত নয়। কেবলমাত্র আমাদের প্রকৃতির নৈতিক দিকের চর্চা হৃদয়ের সংকীর্ণতা ও কাঠিন্তের অন্ধকার রাজ্যে আমাদের নিয়ে যায়, নিয়ে যায় ভালোত্বের অসহ্য দম্ভের পথে । আর কেবল আধ্যাত্মিক দিকের চর্চা আমাদের নিয়ে যায় কল্পনার অসংযমের অন্ধকারতর অণমোদের ক্ষেত্রে । ঈশোপনিষদের কবির অনুসরণে আমরা সকল বাস্তবতার অর্থে উপনীত হয়েছি, সেখানে সীমার মাধ্যমে অসীম নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছেন । কবিতা বা শিল্পকর্মের মতো বাস্তবতা ব্যক্তিত্বের প্রকাশ । মহান পুরুষ র্তার জগতে নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছেন। আর যে ভাবে একটি কবিতার মধ্যে আমি নিজেকে আবিষ্কার করে কবিতাটিকে পাই, সে ভাবে আমি একে আপন করে নিচ্ছি। যদি আমার ব্যক্তিত্ব আমার জগতের কেন্দ্রচু্যত হয়, তবে এক মুহুর্তে ই তা তার সকল গুণ থেকে ভ্ৰষ্ট হয়। এর থেকে আমি জানি যে আমার জগতের অস্তিত্ব আমার সম্পর্কের উপরে প্রতিষ্ঠিত। অামি জানি যে এক ব্যক্তিগত সত্তা ব্যক্তিগত অামাকে এই জগৎ দিয়েছেন । এই দেবার প্রক্রিয়াকে বিজ্ঞানের দ্বারা শ্রেণীভুক্ত ও সূত্রবদ্ধ করা যায়, কিন্তু দানকে আবদ্ধ করা যায় না। কারণ দান হল আত্মা 2切*