পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


থেকে আত্মায়, সুতরাং কেবল আনন্দের মধ্যেই আত্মা একে উপলব্ধি করতে পারে, যুক্তিবিদ্যার দ্বার। একে বিশ্লেষণ করা যায় না। সেই কারণে ব্যক্তিগত মানুষের একটি প্রার্থনা হল মহান পুরুষকে জানার প্রার্থনা । ইতিহাসের সূচনা থেকে সকল স্থষ্টিতে মানুষ ব্যক্তিত্বের স্পর্শ উপলব্ধি করেছে এবং তাকে নাম ও রূপ দিতে চেয়েছে। আর সেই উদ্দেশ্যে মানুষ তার ও মানবজাতির জীবনের চার দিকে নানা গল্পের জাল বুনেছে, এই ব্যক্তি ত্বকে অর্চনা করেছে ও সংখ্যাতীত পূজোপচাবের মধ্য দিয়ে তার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছে। ব্যক্তিত্বেব স্পর্শের এই উপলব্ধি মানুষের হৃদয়ে এক কেন্দ্রাপসারী ঝোক সৃষ্টি কবেছে যার ফলে মানবহৃদয় এক বিরামবিহীন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সংগীতে চিত্রে কাব্যে, মূর্তিতে মন্দিরে উৎসবে মানবহৃদয় আত্মপ্রকাশ করতে চেয়েছে। আর কেন্দ্রাভিমুখী শক্তি মানুষকে আকর্ষণ করেছে নানা গোষ্ঠী, গোত্র ও সাম্প্রদায়িক সংগঠনে। মানুষ যখন ভূমি কর্ষণ ও বস্ত্র বয়ন করেছে, তার সন্তানদের লালনপালন করেছে, সম্পদের জন্য শ্রম ও শক্তির জন্য সংগ্রাম করেছে, তখন সে সুগম্ভীর ছন্দঝংকৃত ভাষায়, রহস্যময় প্রতীকে, মহনীয় প্রস্তরশিল্পে এ কথা ঘোষণা করতে ভোলে নি যে তার জগতের হৃদয়তলে সে মৃত্যুঞ্জয় পুরুষের সাক্ষাৎ লাভ করেছে। মৃত্যুবেদনায় ও নৈরাশ্র্যযন্ত্রণায় যখন বিশ্বাস প্রতারিত ও ভালোবাসা অপমানিত হয়েছে, যখন অস্তিত্ব বিস্বাদ ও অর্থহীন হয়েছে, তখন সকল আশার ধ্বংসস্তৃপের উপর দাড়িয়ে মানুষ আকাশের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে এবং তার অন্ধকার জগতের মাঝে সেই মৃত্যুঞ্জয় পুরুষের স্পর্শ অনুভব করতে চেয়েছে। মানুষ এ কথাও জানে যে সেই মহান পুরুষের সঙ্গে ব্যক্তির (2ご》