পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রত্যক্ষ সংযোগ স্থাপিত হয় । তার মাধ্যম রূপ ও পরিবর্তনের জগৎ নয় বা দেশকাল-আলিঙ্গিত জগৎ নয় । এই সংযোগ স্থাপিত হয় চেতনার অন্তগূঢ় নির্জনতায়, গভীর ও তীব্র বেদনার রাজ্যে । এই সংযোগের মধ্য দিয়ে মানুষ এক নূতন জগতের সৃষ্টি উপলব্ধি করে ; সে জগৎ আলো ও ভালোবাসার জগৎ, নৈঃশব্দ্যের সংগীত ছাড়া তার অন্ত কোনো ভাষা নেই। এর সম্পর্কেই কবি গেয়েছেন— হে আমার ভাই, ঐ রয়েছে অন্তহীন জগৎ, সেখানে আছে এক নামহীন সত্তা, যার বিষয়ে কিছুই বলা যায় না । কেবল সে-ই জানে যে সেই রাজ্যে উপনীত হয়েছে : যা আমরা শুনেছি ও বলেছি, তা সবের বাইরে এই জগৎ । রূপ, আকার, দৈর্ঘ্য প্রস্থ, কোনো কিছুই সেখানে দেখা যায় না : অামি কি ভাবে তোমায় জানাব এ কী ? কবীর বলেন, মুখের কথায় এর বর্ণনা দেওয়া যায় না : কাগজে একে লেখা যায় না : এ যেন এক বোবা লোক যে মিষ্টি খেয়েছে— কিন্তু তা কি করে সে বলবে ? না, একে ব্যাখ্যা করা যায় না, একে উপলব্ধি করতে হয় । আর মানুষ যখন তা করে, তখন সে গেযে ওঠে— আজ অন্তর ও বাহির একই আকাশে পরিণত হয়েছে, সীম। আর অসীম মিলিত হয়েছে : এ-সবের দৃশ্ব দেখে আমি আনন্দে মাতাল হয়েছি। এখানে কবি অনির্বচনীয় সত্যে উপনীত হয়েছেন, সেখানে সকল বিরোধের সমন্বয় হয়েছে। কারণ পরম সত্য সেই মহান e و ۹