পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্রনাথ এই প্রবন্ধটিতে এই সমস্যাগুলির অালোচনা করেছেন । আহমেদাবাদে প্রথম গুজরাট সাহিত্য-সম্মিলনে গান্ধীজির আমন্ত্রণে রবীন্দ্রনাথ ইংরেজিতে লেখা— স্থিষ্টি বনাম নির্মিতি’-নামক একটি লিখিত ভাষণ দেন, তাতেও সাহিত্যতত্ত্ব সম্বন্ধে মূল্যবান আলোচনা আছে। ব্যক্তিত্বের জগৎ প্রবন্ধটিতে রবীন্দ্রনাথ আপাতদৃষ্টিতে যা পরস্পরবিরোধী বলে মনে হয়,— যেমন গতি ও স্থিতি, নিকট ও দূর— তাদের সেই বৈষম্য যে বস্তুকে সমগ্র থেকে বিচ্ছিন্ন ক’রে দেখার জন্তে ঘটছে সেইটে নিয়ে আলোচনা করেছেন। উপনিষদের তদ্‌ এজতি, তন্নৈজতি— চলছে, চলছে নাও— গতি শুধু গতি নয়, স্থিতি শুধু স্থিতি নয়— অস্তিত্বের এই রহস্তের মর্ম রবীন্দ্রনাথ আমাদের কাছে এই প্রবন্ধে ধরে দিয়েছেন। নিকট ও দূর— এর তথ্যের দিক থেকে আলাদা হতে পারে কিন্তু সত্যের দিক থেকে দেখলে এরা এক । বিজ্ঞানী ও নীতিবাগীশ এ বিশ্বকে ও বস্তুজগৎকে খণ্ড ক’রে দেখে বলে সৃষ্টির মর্মকথাটুকু কিছুতেই ধরতে পারে না। ব্যক্তিসত্তার শক্তিই হচ্ছে স্বষ্টির মূলে, ব্যক্তিসত্তাই হচ্ছে প্রকৃত বাস্তব— এই কথা নানা ভাবে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন এই লেখাটিতে। ‘আমার জগৎ প্রবন্ধে ও শান্তিনিকেতন’ বইটির নানা জায়গায় নানা ভাবে এই প্রবন্ধটির মূল ভাব ছড়িয়ে আছে । শিক্ষা সম্বন্ধে রবীন্দ্রনাথের ধারণা স্বদেশী যুগের বহু প্রবন্ধের মধ্যে লিপিবদ্ধ আছে। স্বদেশীর যুগে যখন বাইরের আঘাতকে ঠেকাবার জন্যে অধিকাংশ নেতারাই ডাক দিচ্ছিলেন দেশের লোকদের— আর সেই আঘাতকে বাইরে থেকে প্রতিহত করবার প্রয়োজন খুবই ছিল সেদিন– রবীন্দ্রনাথ তখন জাতির জীবনের ন'ড়ে-যাওয়া ভিতকে মজবুত করবার জন্যে আমাদের ডাক দিলেন। সাত