পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পরিভ্রমণ করেছেন, ঈশোপনিষদেব সেই কবি এইখানেই থেমেছেন। ব্রহ্মকে অনন্ত সত্তারূপে ও সীমাবদ্ধ প্রাণীরূপে একই সঙ্গে দেখার সাহস তার অাছে। তিনি ঘোষণা করেছেন কর্মের মধ্যেই জীবন, কর্মই আত্মাকে ব্যক্ত করে । আমাদের সত্তা বর্জনে ও সকলের সঙ্গে মিলনে সেই মহান সত্তার মধ্যে আমাদের আত্মাকে উপলব্ধি করার শিক্ষা তিনি আমাদের দিয়েছেন । ঈশোপনিষদের কবি যে গভীর সত্যকে প্রকাশ করেছেন সে সত্য সরল মনের সত্য ; তা বাস্তবতার রহস্যের সঙ্গে গভীর প্রেমে আবদ্ধ। আর যে যুক্তি তার বিচ্ছিন্নতার প্রক্রিয়ার দ্বারা বিশ্বকে ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে আসে সেই যুক্তির চূড়ান্ত বক্তব্যে এই সত্য বিশ্বাস স্থাপন করে না । এই জগৎ আমার আত্মার একীভূত— এই উপলব্ধির আকস্মিক আনন্দ-উৎসার আমার হৃদয়কে যখন পরিপূর্ণ করে ফেলে, তখন কি সূর্যালোক আরো উজ্জল ও চন্দ্রীলোক কোমলতায় আরো গভীর বলে আমি অনুভব কবি নি ? যখন আমি বর্ষাগমের গান গাই, তখন ধারাপতনের শব্দের বিষাদ আমার গানে রূপ লাভ কবে । আমাদের ইতিহাসের উষাকাল থেকে কবি ও শিল্পীর দল অস্তিত্বের কাঠামোয় তাদের আত্মার রঙ ও গান প্রবেশ করিয়ে দিচ্ছেন। আর এ থেকেই আমি নিশ্চিত করে জানি যে, এই পৃথিবী ও আকাশের সঙ্গে মানুষের মনের ধূপছায় বস্ত্রের বুনট হয়েছে, কেননা এই মানুষের মনই একই সঙ্গে বিশ্বগত মন । যদি তা সত্য না হয়, তবে কাব্য হবে মিথ্যা, গান হবে প্রতারণা, এবং মূক জগৎ মানুষেব হৃদয়কে একান্ত নিস্তব্ধতায় আবদ্ধ করবে। মহান প্রভু বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে চলেছেন ; ফুৎকার তার নিজের, কিন্তু বাদ্যযন্ত্র আমাদের মন । এর মধ্য দিয়েই তিনি তার স্ব ৪র সংগীত &9*