পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বজায় রেখে চলতে হয় ; আবার ইতিবাচক দিকে জীবন বিশ্বের সঙ্গে ঐক্য রক্ষা করে। এই ঐক্যে জীবনের পরিপূর্ণত । একটি পশুর জীবনে নেতিবাচক দিকের এই স্বাতন্ত্র্যের উপাদান খুব স্পষ্টতর হয়ে ওঠে ও সেই কারণে ইতিবাচক দিকে জগতের সঙ্গে পশুর সম্পর্ক ব্যাপকতর হয়ে ওঠে । পশু থেকে পশুর খাদ্য আরো সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন। সুখ ও বেদনার তাড়নায় পশুকে খাদ্য সংগ্রহ করতে হয় ও জানতে হয় । সুতরাং পশুর জ্ঞান ও অনুভবের রাজ্যের সঙ্গে পশুর আরো সম্পূর্ণতর সম্পর্ক বর্তমান । যৌনস্বাতস্থ্যের ক্ষেত্রে পশুর জীবনে এটি আরো বেশি সত্য । এই-সব স্বাতন্ত্র্য ও মিলনের পরবর্তী প্রয়াস পশুর স্বার্থচেতনাকে তুলে ধরে । তার ফলে অ-পূর্বদৃষ্ট বাধা ও অপ্রত্যাশিত সম্ভাবনার সঙ্গে পশুর সংযোগ স্থাপিত হয় ও তাদের ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে । গাছের ক্ষেত্রে সন্তানপরম্পর থেকে তাদের স্বাতন্ত্র্য সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতায় শেষ হয়, আর পশুর ক্ষেত্রে তা থেকে নূতন সম্পর্ক স্বষ্টি হয়। এইভাবে পশুদের মূল-কৌতুহল গভীরতর ক্ষেত্রে ব্যাপ্ত হয়ে যায়, এবং তাদের চতনা ব্যাপকতর ক্ষেত্রে প্রসারিত হয়। পশুদের ব্যক্তিগত স্বাতন্ত্র্যের এই বিস্তৃততর ক্ষেত্র তাদের জগতের সঙ্গে জটিল সম্পর্কের মধ্য দিয়ে নিয়ত বজায় রাখতে হয় । এই পথে সব বাধাই তাদের পক্ষে অমঙ্গলকর । মানুষের ক্ষেত্রে শারীরিক জীবনের এই দ্বৈতত আরো বিচিত্র । তার প্রয়োজন কেবল যে সংখ্যায় বেশি ও সে কারণে অন্বেষণের বিস্তৃততর ক্ষেত্রে ব্যাপ্ত, তা নয় ; সেই সঙ্গে তার প্রয়োজন আরো জটিল ও সে কারণে বস্তুর গভীরতর জ্ঞানের প্রত্যাশী । এর ফলে মানুষ নিজের সম্পর্কে বৃহত্তর চেতনার অধিকারী হয়। গাছ ও পশুর স্বতশ্চল ও স্বতঃপ্রবৃত্ত কাজের ক্ষেত্রটি আরো বেশি পরিমাণে (R Woo