পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মানুষের মন দখল করে নেয়। এই মনেরও স্বাতন্ত্র্য ও ঐক্যের নেতিবাচক ও ইতিবাচক দিক রয়েছে। কারণ, মানুষের মন জ্ঞানের বস্তুগুলিকে তাদের জ্ঞাতা থেকে বিচ্ছিন্ন করে, এবং তার পরে আবার জ্ঞানের সম্পর্কে তাদের ঐক্যসূত্রে বাধে। খাদ্যসংগ্রহ ও যৌনক্রিয়ার মূল সম্পর্কের জগতে আরেকটি অপ্রধান সম্পর্ক যুক্ত হয় ; তা হল মানসিক সম্পর্ক। এইভাবে এই জগতে বেঁচে থেকে ও এই জগৎকে জেনে আমরা একে দুবার করে পাই । কিন্তু মানুষের মধ্যে আর একটি বিরোধ রয়েছে। তা মানুষের শারীরিক জীবনের বৈশিষ্ট্যের দ্বারা ব্যাখ্যাত হয় না। যা আছে ও যা হওয়া উচিত— এই নিয়ে মানুষের চেতনার মধ্যে যে দ্বৈততা বর্তমান, তা-ই হল এই নূতন বিরোধ। পশুর মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য নেই কেননা পশুর মধ্যে বিরোধ, যা আছে ও যা চাওয়া হয়েছে— তার মধ্যে । আর মানুষের মধ্যে বিরোধ— যা চাওয়া হয়েছে ও যা চাওয়া উচিত— তার মধ্যে । যা চাওয়া হয়েছে, তার অধিষ্ঠান প্রাকৃতিক জীবনে, সেখানে আমরা পশুদের সহযাত্রী। কিন্তু যা চাওয়া উচিত, তার অধিষ্ঠান এমন এক জীবনে যা এই জীবন থেকে বহু দূরে। সুতরাং মানুষের দ্বিতীয় জন্ম ঘটেছে। মানুষ তার পশু-জীবনের বেশ কিছু অভ্যাস ও প্রবৃত্তি এখনো বজায় রেখেছে। তথাপি মানুষের সত্য জীবন, যা হওয়া উচিত, সেক্ষেত্রেই রয়েছে। এই ক্ষেত্রে ক্রমান্বয়তা সত্ত্বেও বিরোধ রয়েছে। বহু জিনিসই যা এক জীবনের পক্ষে কল্যাণকর, অপর জীবনের পক্ষে তা অকল্যাণকর। নিজের মধ্যে এই সংগ্রামের আবশ্যকতা মানুষের ব্যক্তিত্বে একটি নূতন উপাদান যুক্ত করেছে ; তা হল চরিত্র। আকাজক্ষার জীবন থেকে এই চরিত্র মানুষকে উদ্দেশ্যের জীবনের পথে চালনা করে। ৬৬৩