পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এই জীবন নৈতিক জগতের অন্তর্গত । এই নৈতিক জগতে আমরা প্রকৃতির জগৎ থেকে মানবতার জগতে উপনীত হই । আমরা জীবনধারণ ও চলাফেরা কবি এবং বিশ্বমানবে আমাদের সত্তাকে পাই। একটি মানবশিশু একই সময়ে জাগতিক বিশ্বে ও মানবতার বিশ্বে জন্মগ্রহণ কবে । এই শেষোক্ত জগৎ নানা আদর্শ ও প্রতিষ্ঠানের জগৎ, সঞ্চিত জ্ঞান ও শিক্ষাপ্রাপ্ত অভ্যাসের জগৎ । বহু বীরের আত্মত্যাগে, বহু যুগের কৃচ্ছ সাধনায় এই জগৎ গড়ে উঠেছে। সর্ব যুগের ও দেশের সংখ্যাতীত ব্যক্তি-মানুষের আত্মত্যাগের উপর এই জগতের ভিত্তি গড়ে উঠেছে। এই জগতে সৎ ও অসৎ উপাদান আছে— উপরিতলের ও উত্তাপের অসমত আছে, আর তারই ফলে মানুষের জীবন নানা বিস্ময়ে ভরে ওঠে । এই হল মানুষের দ্বিতীয় জন্মের জগৎ ; অতি-প্রাকৃত জগৎ । এখানে পশুজীবন ও নৈতিক জীবনের দ্বৈততা মানুষ হিসেবে আমাদের ব্যক্তিত্ব সম্বন্ধে আমাদের সচেতন করে তোলে। নৈতিক জগতের সঙ্গে মানুষের এই জীবনের ত্রুটিহীন সম্পর্ক-প্রতিষ্ঠায় যা বাধা সৃষ্টি করে, তাই মানুষের পক্ষে অকল্যাণকর । এই হল মৃত্যু— প্রাকৃতিক জীবনের মৃত্যুর চেয়ে তা অনেক বড়ো মৃত্যু । প্রাকৃতিক জগতে বিজ্ঞানের সাহায্যে মানুষ পদার্থ-শক্তিসমূহের পীড়নকে আনুগত্যে পরিবর্তিত কবে তুলছে। কিন্তু নৈতিক জগতে মানুষকে কঠিনতর কর্ম সাধন করতে হচ্ছে। মানুষকে তার নিজের প্রবৃত্তি ও আকাঙ্ক্ষাসমূহের পীড়নকে আনুগত্যে পরিণত করতে হচ্ছে। অার সর্বকালে ও সর্ব ঋতুতে মানুষের বিরামহীন সাধন এই উদ্দেশ্যেই প্রযুক্ত হচ্ছে। আমাদের প্রায় সকল প্রতিষ্ঠানই এই-সব সাধনার ফল। এই সাধনা,আমাদের هوان،