পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ইচ্ছাশক্তিকে পরিচালিত করছে ও শক্তির ব্যর্থ অপচয় বাদ দিয়ে এই ইচ্ছার স্বচ্ছন্দগতিতে যাবার পথ উন্মুক্ত করে দিচ্ছে। আমরা দেখেছি শারীরিক জীবন ধীরে ধীরে মানসিক জীবনে বিস্তৃত হচ্ছে । জীবনের অতিপ্রত্যক্ষ প্রয়োজনের জ্ঞানে ও অন্বেষণে পশুর মন সম্পূর্ণ ব্যাপৃত থাকে। মানুষের ক্ষেত্রে এই প্রয়োজন বিচিত্র, আর সেজন্যে বৃহত্তর মনঃশক্তির প্রয়োজন। এইভাবে আমরা জানতে পারি, যে-জগৎ অন্তহীনভাবে আমাদের বর্তমান প্রয়োজনকে ছাড়িয়ে যায় তার সঙ্গে এই প্রয়োজনের জগতের মিল আছে। আমরা জানতে পারি, এই জগৎ আমাদের কেবল খাদ্য যোগায় না, সেই সঙ্গে ব্যাপকতর পরিমাণে চিন্তাও যোগায়। আমরা জানতে পারি, সকল বস্তুর সঙ্গে আমাদের মনের একটি সূক্ষ্মতর সম্পর্ক রয়েছে । ಗ್ದಿ জগতে যা বিচারশক্তি, তাই নৈতিক জগতে আমাদের ইচ্ছাশক্তি 0 আমাদের এই ইচ্ছাশক্তি যত মুক্ত ও বিস্তারিত হবে, আমাদের নৈতিক সম্পর্ক ততই সত্য, বিচিত্র ও ব্যাপক হবে । এই ইচ্ছাশক্তির বাইরের মুক্তি হল সুখ ও বেদনার শাসন থেকে মুক্তি ; আর অন্তরের মুক্তি হল স্বার্থ-সাধনের সংকীর্ণতা থেকে মুক্তি । আমরা জানি স্বার্থের দাসত্ব থেকে বিচারশক্তি মুক্তি পেলে তা বিশ্বগত যুক্তির জগৎকে আবিষ্কার করে। আমাদের প্রয়োজন মেটাবার জন্তে আমরা অবশ্যই এই জগতের সঙ্গে সঙ্গতি স্থাপন করব। একই ভাবে, যখন ইচ্ছাশক্তি বাধামুক্ত ও সৎ হয়, অর্থাৎ এর ক্ষেত্র সর্বমানবে ও সর্বকালে প্রসারিত হয়, তখন তা মানুষের নৈতিক জগৎকে অতিক্রম করে আর-এক জগতের প্রতি দৃষ্টি প্রসারিত করে । এই ইচ্ছাশক্তি এমন এক জগৎ আবিষ্কার করে যেখানে আমাদের নৈতিক জীবনের সকল সংযম তাদের পরম by و ۹