পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সত্যকে পায়, এবং আমাদের মন এই ধারণায় উন্নীত হয় যে সত্যের এমন একটি অনন্ত মাধ্যম আছে যার মধ্য দিয়ে সততা সার্থকতা খুজে পায়। অপরের সঙ্গে মিলনের মধ্য দিয়ে আমি যে হয়ে উঠছি— এটি অঙ্কের সরল তথ্য নয়। আমরা জানি যে পূর্ণ মিলনের ক্ষেত্রে যখন নানা স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব প্রেমে আবদ্ধ হয়, তখন সে মিলনকে কর্মদক্ষতার শক্তি বেড়ে যাবার সমতুল মনে করা যায় না। বরং সত্যের মাঝে অপূর্ণ যে ভাবে পূর্ণতাকে পায়, এই মিলনকে সে রকম প্রাপ্তি মনে করা যেতে পারে। আর সে কারণেই এটা হল আনন্দের প্রাপ্তি। সম্পর্কহীন অৱস্থায় যা ছিল অর্থহীন, সম্পর্কযুক্ত হয়ে তা খুজে পায় পূর্ণ অর্থকে D এই পূর্ণত পরিমাপ বা বিশ্লেষণের বস্তু নয়, তা হল সামগ্রিকতায় তা সকল অংশকে ছাড়িয়ে যায়। এই পূর্ণতা আমাদের নিয়ে যায় এক রহস্যের দিকে। সে রহস্যের অধিষ্ঠান সকল বস্তুর হৃদয়ে, তথাপি তার বাইরে । একটি ফুলের সৌন্দর্য যেমন তার উদ্ভিদজগতের তথ্যকে ছাড়িয়ে অনেক দূরে চলে যায় ; অথবা মানবতাবোধ যেমন নিছক যুখচারিতায় আবদ্ধ হয় না, তেমনি এই রহস্য বস্তুকে অতিক্রম করে যায় । ভালোবাসায় পূর্ণতা প্রাপ্তির এই অনুভূতি হল পূর্ণ একত্বের অনুভূতি। তা আমাদের সামনে অনন্ত একের দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়। সেই অনন্ত এক সকল ব্যক্তিত্বের মিলনে উদ্‌ঘাটিত হন। তিনি স্বার্থবিসর্জনের ক্ষেত্রে, বৃহত্তর জীবনের আশায় মৃত্যুতে ও বৃহত্তর লাভের আশায় ক্ষতিতে সত্য আরোপ করেন । ত্যাগের শূন্যতাকে আপন পূর্ণতার দ্বারা তিনি পূর্ণ করেন। এখানেই আমরা আমাদের জীবনে বৃহত্তম বিভেদের সম্মুখীন হই– সে বিভেদ সীমা অসীমের বিভেদ । আমাদের মধ্যে যা আছে ও JS