পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমাদের বাইরে যা আছে, এ দুয়ের সম্পর্ক সম্বন্ধে এখানেই আমরা সচেতন হই। বর্তমান মুহুর্তে যা আছে ও ভবিষ্যতে যা আসবে, এ দুয়ের সম্পর্ক সম্বন্ধে আমরা সচেতন হই । আমাদের শারীরিক অস্তিত্বের সঙ্গেই এই সম্পর্কের চেতনা আমাদের মধ্যে দেখা দেয়। সেখানে আমাদের ব্যক্তিগত জীবন ও বস্তুগত বিশ্বজীবনের মধ্যে বিচ্ছেদ ও মিলন রয়েছে। ত৷ আমাদের মানসিক জীবনে গভীরতর রঙের প্রলেপ দিয়েছে। সেখানে আমাদের ব্যক্তিগত মন ও বিশ্বগত যুক্তির জগতের মধ্যে বিচ্ছেদ ও ক্রমান্বয় পুনর্মিলন স্থাপিত হচ্ছে। যেখানে ব্যক্তিগত ইচ্ছা ও বিশ্বগত মানবিক ব্যক্তিত্বের জগতের মধ্যে বিচ্ছেদ ও মিলন বর্তমান, সেখানে এই চেতনা বিস্তারিত হচ্ছে। আমাদের মধ্যে ব্যক্তিগত এক ও অনন্তের মধ্যে বিশ্বগত এক— এ দুয়ের মধ্যে যে বিচ্ছেদ ও মিলন রয়েছে, সেখানেই এই চেতনা পরম অর্থে উপনীত হয়। আর একের সঙ্গে একের এই চিরস্থায়ী বিচ্ছেদ ও মিলনের বিন্দুতে মানুষের বিস্ময়কর সংগীত ধ্বনিত হয়ে ওঠে— এষাস্থ্য পরম গতিঃ, এষাস্ত্য পরম সম্পৎ । এযেহিস্ত পরমো লোকঃ, এষেণহস্য পরম আনন্দঃ ॥ সেই এক ও এই একের সম্পর্কই জীবন । বস্তু ও মানুষের জগতে সেই এক ও এই একের মৃত্যস্পন্দন অন্তহীন ছন্দে প্রবাহিত হয়ে চলেছে। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত না সেই পরম এক ও এই পরম একের মধ্যে উপলব্ধি পূর্ণ হয়ে উঠছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই সম্পর্কের অর্থ প্রকাশিত হচ্ছে না । মাতৃগর্ভে অজাত শিশুর সঙ্গে তার পরিবেশের যে সম্পর্ক,