পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তা অন্তরঙ্গ, কিন্তু তার চরম অর্থ নেই। সেখানে তার সকল প্রয়োজন খুটিনাটি সমেত মিটে যাচ্ছে, কিন্তু তার বৃহত্তম প্রয়োজন অপূর্ণ রয়ে যাচ্ছে। আলো অার ভূমির জগতে তাকে জন্মাতেই হবে ও কর্মের স্বাধীনতা তাকে পেতেই হবে । মাতৃগর্ভের জগৎ থেকে সেই জগৎ প্রতিটি ক্ষেত্রে এত ভিন্নতর যে, যদি অজাত শিশুর চিন্তা করার ক্ষমতা থাকত, তবে সে কখনো কল্পনা করতে পারত না বাইরের জগৎটা কী । তথাপি তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গাদি রয়েছে, কিন্তু আলো বাতাসের মুক্ত জগতেই তাদের অর্থ আছে। একই ভাবে প্রাকৃতিক জগতে আপন সত্তার শুশ্রষার সকল আয়োজন মানুষের আছে । সেখানে তার আপন সত্তার স্বার্থই মানুষের প্রধান চিন্তার বিষয় । এই সত্তা আপন স্বার্থে অন্যান্য সত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন। তার জগতের সব-কিছুই তার স্বার্থের অনুযায়ী । মানুষের ব্যবহার ছাড়া সে-সবের মধ্যে অন্ত কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু অজাত শিশুর অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মতো মানুষের মধ্যে কয়েকটি ক্ষমতা গড়ে ওঠে। এই ক্ষমতাই মানুষকে জগতের ঐক্য উপলব্ধি করবার শক্তি দেয় । সে ঐক্য আত্মার গুণ, বস্তুনিচয়ের গুণ নয়। অপরের মধ্যে আনন্দ, সৌন্দর্য ও প্রেমের মধ্যে আনন্দ, এমন-কি নিজের মধ্যে আনন্দ উপভোগের ক্ষমতা মানুষের অাছে। যে ক্ষমতা মানুষকে সুখ উপেক্ষ করতে এবং বেদন ও মৃত্যু গ্রহণ করতে প্ররোচনা দেয়, যা মানুষকে তার অগ্রগতির সকল সীমা লজঘন করতে বলে, এবং তাকে জ্ঞান ও কর্মের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়, সে ক্ষমতা মানুষের কোনো আপাত প্রয়োজনে লাগে না । এর ফলে প্রাকৃতিক জগতের সঙ্গে মানুষের বিরোধ উপস্থিত হয়, এবং যোগ্যতমের উদ্বর্তন নীতির অর্থ পরিবর্তিত হয়। ዓ›