পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এখানেই মানুষের দ্বৈততার বৃহত্তম দুঃখ উপস্থিত হয়— প্রকৃতি-জগতের ও আত্মার জগতের দ্বৈততায় সংঘর্ষ লাগে । প্রাকৃতিক মানুষকে যে অন্যায় আঘাত করে তার নাম বেদন । কিন্তু যা মানুষের আত্মাকে আঘাত করে তাকে একটি বিশেষ নাম দেওয়া হয়েছে, তা হল পাপ । কারণ বেদনার মধ্যে হয়তো এই পাপকে অনুভব করাই যাবে না। তথাপি তা অন্যায়। ঠিক যেমন ভ্রণের কাছে অন্ধতা বা খঞ্জতার কোনো অর্থ নেই, তথাপি জন্মের পরে যদি তা চলতে থাকে তো সেটা বড়ো অমঙ্গল হয়ে ওঠে । কারণ সেটা জীবনের পরম উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে। মানুষের বিরুদ্ধে দুষ্কর্ম সাধিত হয় ; কিন্তু পাপ অনুষ্ঠিত হয় আমাদের মধ্যে যে ঐশ্বরিক শক্তি আছেন তারই বিরুদ্ধে । এই ঐশ্বরিক শক্তি কী ? এটা হল সেই শক্তি যার যথার্থ ও সত্য অর্থ নিহিত আছে আনন্তে, যা মানবসত্তার ভ্রণজীবনকে পরম সত্য বলে বিশ্বাস করে না । জন্মযন্ত্রণা মানবজাতিকে ব্যাপ্ত করে অাছে। তার ইতিহাস বেদনার ইতিহাস, কোনো পশু কখনো তা উপলব্ধি করতে পারে না । তার সমস্ত শক্তি জন্মযন্ত্রণাকে সামনের দিকে এগোতে বলছে ; তার কোনো বিশ্রাম নেই। যখন তা প্রাচুর্যের ফলে নিদ্রামগ্ন হয়, জীবনকে প্রথাবদ্ধ করে, জীবনের আদর্শকে বিদ্রুপ করতে শুরু করে এবং স্বার্থবৃদ্ধির পথে তার সকল শক্তিকে প্রয়োগ করতে চায়, তখন তা মৃত্যুলক্ষণ প্রকাশ করে। তার এই শক্তি তখন ধ্বংসের শক্তি হয়ে দাড়ায়— সে শক্তি মৃত্যুসাধনের জন্য বিপুল আয়োজন করে এবং অনশ্বর জীবনে আর বিশ্বাস করে না । আর সব প্রাণীর ক্ষেত্রে প্রকৃতিই চূড়ান্ত। বেঁচে থাকা, বংশ রক্ষা করা ও মরে যাওয়াতেই তাদের সমাপ্তি। আর তাতেই १२