পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শান্তিনিকেতনের শাল-বীথিতে ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়ের সঙ্গে পদচারণ করতে করতে রবীন্দ্রনাথ একদিন জাতীয় শিক্ষার কথা তুললেনবললেন, ত্রিশস্কুর অবস্থা থেকে জাতিকে বাচাতে হবে, ভারতের মৃত্তিকার গভীরে তার শিকড় নামিয়ে দিতে হবে, তার পরে ভারতীয় সাধনার রস পান করে বীর্যবান হয়ে সারা পৃথিবীর সঙ্গে তার যোগস্থাপন করতে হবে । রবীন্দ্রনাথের মতে শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে গোট। মানুষ তৈরি করা, আর যে আদর্শ-অভিমুখে শিক্ষা আমাদের নিয়ে যাবে সেটি হচ্ছে সর্বজাগতিকতা । আশ্চর্যের কথা ও আমাদের গর্বের কথা যে স্বদেশীর যুগে যখন বিদেশী শক্তির দস্থ্যতার বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করছিলুম, তখন এক দিকে যেমন বিদেশী জিনিস বয়কট, স্বদেশী জিনিস ব্যবহার, শাসকদের সঙ্গে সর্বপ্রকারের সম্বন্ধ বর্জন করবার ও রাখীবন্ধন উৎসব দিয়ে নিজেদের জাতীয় সংহতি ঘোষণা করবার ডাক নেতারা দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার দ্বারা জাতির অন্তরে সর্বজাগতিকতার উদবোধন করবার ডাকও সেদিন রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে এসেছিল । জাতীয় শিক্ষাপরিষদের পরিকল্পনা স্বদেশী যুগের নেতাদের সামনে রবীন্দ্রনাথ হাজির করেন ও সমস্ত পরিকল্পনার খসড়া প্রস্তুত করে দেন। তিনি নিজে অধ্যাপন করেন, এমন-কি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রগুলিও তৈরি ক’রে দেন । ওদিকে শান্তিনিকেতনে বহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা ক’রে শিক্ষা-প্রণালী নিয়ে পরীক্ষা শুরু করেন। র্তার বিদ্যালয় সম্বন্ধে রবীন্দ্রনাথ বক্তৃত দৈন ইয়োরোপে ও আমেরিকায়। উইলিয়াম পিয়ার্সনও শান্তিনিকেতনের বিদ্যালয় সম্বন্ধে একটি পুস্তিক রচনা করেন। রবীন্দ্রনাথ যখন উনিশ শে৷ ত্রিশ সালে রাশিয়ায় যান তখন সোভিয়েত শিক্ষাবিদদের সঙ্গে জমাট